কোরবানির ঈদে মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ

কোরবানির ঈদ মানেই গরু বা খাসির মাংসের নানা সুস্বাদু পদ। কোরমা, রেজালা, কালাভুনা, কাবাব কিংবা ভুনা, ঈদের কয়েক দিন খাবারের টেবিলে থাকে মাংসের আধিক্য। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হজমের সমস্যা আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত ও সচেতনভাবে মাংস খেলে ঈদের আনন্দ যেমন বজায় থাকবে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে।
পরিমাণ বুঝে মাংস খান
একবারে অতিরিক্ত মাংস না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। বিশেষ করে যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তারা একেবারে মাংস বন্ধ না করে পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন।
অতিরিক্ত চর্বি ফেলে দিন
রান্নার আগে মাংসের দৃশ্যমান চর্বি যতটা সম্ভব কেটে ফেলে দিন। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদরোগ ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কম চর্বিযুক্ত অংশ বেছে নেওয়াই ভালো।
গরুর মাংসের ক্ষেত্রে স্যারলয়েন বা টেন্ডারলয়েন অংশ তুলনামূলক কম চর্বিযুক্ত বলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করুন
মাংস কীভাবে রান্না করা হচ্ছে সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেদ্ধ, ভাপে রান্না বা গ্রিল করা মাংস তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যকর। এতে পুষ্টিগুণও বেশি থাকে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে চর্বির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
সঙ্গে স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট রাখুন
শুধু মাংস খেলে খাবারে ভারসাম্য থাকে না। তাই মাংসের সঙ্গে লাল চালের ভাত, সিদ্ধ আলু, আটার রুটি ও ওটস বা হোল গ্রেইন খাবার রাখতে পারেন।
এগুলো শরীরে শক্তি জোগায় এবং হজমেও সহায়তা করে।
লবণ ও তেল কম ব্যবহার করুন
ঈদের রান্নায় সাধারণত মসলা, তেল ও লবণের ব্যবহার বেশি হয়। তবে অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। আবার বেশি তেল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
তাই রান্নায় তেল ও লবণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
মাংসজাত খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির চাহিদাও বাড়ে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজম ভালো থাকে এবং শরীরের পানিশূন্যতা কমে। বিশেষ করে গরমের সময় পানি ও ওআরএস শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বেশি করে শাকসবজি ও ফল খান
মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি খেলে হজম ভালো হয় এবং শরীরে ফাইবারের ঘাটতি কমে।
এ সময় পালং শাক, গাজর, বাঁধাকপি, ব্রকলি, শসা ও টমেটো খেতে পারেন। এছাড়া পেঁপে, আপেল বা পেয়ারার মতো ফল হজমে সহায়ক হতে পারে।
দিনে কতবার মাংস খাচ্ছেন খেয়াল রাখুন
ঈদের কয়েকদিন প্রতিটি বেলাতেই মাংস খাওয়ার অভ্যাস অনেকের থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সব বেলায় মাংস না খেয়ে মাঝে মাঝে ডাল, মাছ, সবজি বা অন্যান্য খাবার রাখা উচিত।
এতে খাবারে ভারসাম্য বজায় থাকে।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
ঈদের সময় অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং হজমও ভালো হয়।
যেমন- হাঁটা, সাইকেল চালানো, হালকা ব্যায়াম বা সিঁড়ি ব্যবহার করা।
নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রাখুন। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যা রয়েছে, তাদের মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবারের তালিকা ঠিক করা উচিত।
কোরবানির ঈদ আনন্দ ও ভাগাভাগির উৎসব। তাই সুস্থ থাকার জন্য মাংস পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত খাওয়া, স্বাস্থ্যকর রান্না এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে নিরাপদ উপায়।
সামান্য সতর্কতা মেনে চললে ঈদের সুস্বাদু খাবার উপভোগের পাশাপাশি সুস্থ থাকাও সম্ভব।
সূত্র: টেমপো ইংলিশ
.png)





