Advertisement

রক্তে শর্করা বাড়ার জন্য দায়ী হতে পারে এই ৭ দৈনন্দিন অভ্যাস

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রক্তে শর্করা বাড়ার জন্য দায়ী হতে পারে এই ৭ দৈনন্দিন অভ্যাস
ছবি : সংগৃহীত

মিষ্টি বা চিনি কম খেলেও যদি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে জীবনযাপন করছেন সেটিও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, দীর্ঘ সময় বসে থাকা কিংবা অনিয়মিত খাবারের মতো কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ডায়াবেটিসের কথা উঠলেই অনেকের প্রথম সিদ্ধান্ত হয় মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করা। এটি অবশ্যই ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্তু অনেকেই অবাক হয়ে দেখেন, মিষ্টি এড়িয়ে চলার পরও রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হচ্ছে না, কখনো কখনো আরও বেড়েও যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিনি বা মিষ্টি নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনের আরও অনেক অভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুম, মানসিক চাপ, শরীরচর্চা, খাবার খাওয়ার সময় এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয়গুলোও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাকে প্রভাবিত করে।

দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা

অনেকেই নিয়মিত মিষ্টি খান না, কিন্তু দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান। এতে শরীরের পেশিগুলো কম সক্রিয় থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করলে শরীর গ্লুকোজ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে। খাবার খাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাও উপকারী হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া

ঘুমের অভাব শুধু ক্লান্তিই বাড়ায় না, এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও প্রভাবিত করতে পারে।

নিয়মিত কম ঘুম হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করা উচিত।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ

অফিসের চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা, অর্থনৈতিক উদ্বেগ বা সারাক্ষণ ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যস্ত থাকা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের কারণে কর্টিসলসহ কিছু হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।


শুধু মিষ্টি বাদ দিয়ে পরিশোধিত শর্করা বেশি খাওয়া

অনেকে মিষ্টি না খেলেও নিয়মিত সাদা ভাত, ময়দার তৈরি খাবার, বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খান।

এসব খাবারও দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই হবে না, পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শাকসবজি, ডাল, গোটা শস্য, বাদাম ও পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

অনিয়মিত সময়ে খাওয়া

সকালের নাশতা বাদ দেওয়া, অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা বা রাত করে ভারী খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাসও রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

নিয়মিত সময় মেনে সুষম খাবার খেলে শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

খাবারের আশপাশের পরিবেশের প্রভাব

বর্তমানে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, অনলাইন খাবার অর্ডার, অফিসের আপ্যায়ন বা সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই ধরনের পরিবেশ আমাদের অজান্তেই অতিরিক্ত খাবার খেতে উৎসাহিত করে। তাই ক্ষুধা লাগার কারণে খাচ্ছেন, নাকি অভ্যাসবশত খাচ্ছেন, সেটি বুঝে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।


ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস না গড়ে তোলা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে হঠাৎ বড় পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বেশি কার্যকর। যেমন:

  • রাতের খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা
  • প্রতিদিন একটি অতিরিক্ত সবজির পদ খাওয়া
  • লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা
  • অফিসে প্রতি ঘণ্টায় উঠে কিছুক্ষণ হাঁটা
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া
  • মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান বা শখের কাজের জন্য সময় রাখা

এই ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু মিষ্টি বাদ দিলেই কি যথেষ্ট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, না। ডায়াবেটিস একটি জটিল বিপাকজনিত সমস্যা। শুধু মিষ্টি না খেলেই এর ঝুঁকি দূর হয় না। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা একসঙ্গে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

মিষ্টি কম খাওয়া অবশ্যই ভালো অভ্যাস। তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য এটিই একমাত্র সমাধান নয়। দিনের পর দিন জমে ওঠা ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক সময় ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় বা কমায়। তাই শুধু চিনির পাত্র থেকে দূরে থাকলেই হবে না, পুরো জীবনযাপনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা এবং এর ঝুঁকি কমানো অনেকটাই সহজ হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া