Advertisement

প্রেশার কুকারে ডাল রান্নার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্রেশার কুকারে ডাল রান্নার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
প্রেসার কুকারে ডাল রান্না করলে সময় ও জ্বালানি দুটোই বাঁচে। ছবি : সংগৃহীত

প্রেশার কুকারে ডাল রান্না করলে সময় ও জ্বালানি দুটোই সাশ্রয় হয়। তবে সঠিক পদ্ধতি না জানলে ডাল কখনো শক্ত থেকে যেতে পারে, আবার কখনো অতিরিক্ত গলে স্বাদ ও গঠন নষ্ট হতে পারে। এমনকি অসাবধানতায় কুকারের সিটির সঙ্গে ফেনা বা পানি বেরিয়ে এসে ঝামেলাও তৈরি করতে পারে। তাই প্রেশার কুকারে ডাল রান্নার আগে কয়েকটি সহজ নিয়ম জেনে রাখা জরুরি।

ডাল বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রেশার কুকারে রান্না করার পরও ডাল কখনো শক্ত থেকে যায়, আবার কখনো অতিরিক্ত গলে যায়। অনেক সময় কুকারের সিটির সঙ্গে ডালের ফেনা বা পানি বেরিয়ে এসে পুরো রান্নাঘর নোংরা করে ফেলে।

রান্নাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে প্রেশার কুকারেই খুব সহজে নরম, মসৃণ এবং সুস্বাদু ডাল রান্না করা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই কৌশলগুলো।

রান্নার আগে ডাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন: ডাল রান্নার আগে ২ থেকে ৩ বার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে ধুলাবালি ও অতিরিক্ত স্টার্চ দূর হয় এবং রান্নার পর ডালের স্বাদও ভালো থাকে।

সম্ভব হলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন: মসুর ডালের ক্ষেত্রে ভিজিয়ে রাখা জরুরি না হলেও মুগ, ছোলা, অড়হর বা অন্যান্য শক্ত ডাল ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময়ও কম লাগে।

পানির পরিমাণ ঠিক রাখুন: প্রেশার কুকারে ডাল রান্নার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানির সঠিক পরিমাণ।

খুব কম পানি দিলে ডাল শক্ত থেকে যেতে পারে। আবার বেশি পানি দিলে সিটির সময় ফেনা ও পানি বেরিয়ে আসতে পারে। তাই ডালের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনমতো পানি ব্যবহার করুন এবং কুকার অতিরিক্ত ভরে ফেলবেন না। সাধারণভাবে কুকারের অর্ধেক থেকে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরবেন না।

কয়েক ফোঁটা তেল ব্যবহার করতে পারেন: ডাল রান্নার সময় ২ থেকে ৪ ফোঁটা তেল দিলে অনেক ক্ষেত্রে ফেনা কম তৈরি হয় এবং সিটির সঙ্গে ডাল উপচে পড়ার সম্ভাবনাও কমে। কিছু রান্নার বিশেষজ্ঞ কুকারের ভেন্টের কাছেও কয়েক ফোঁটা তেল দেওয়ার পরামর্শ দেন।

হলুদ শুরুতেই দিন: রান্নার শুরুতেই হলুদ মিশিয়ে দিলে ডালের রং সুন্দর হয় এবং সমানভাবে সেদ্ধ হতে সাহায্য করে। তবে অনেক রাঁধুনি লবণ পরে দেওয়ার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে কিছু শক্ত ডালের ক্ষেত্রে, যাতে ডাল দ্রুত নরম হয়।

সঠিক আঁচে রান্না করুন: প্রথমে মাঝারি থেকে উচ্চ আঁচে কুকারে চাপ তৈরি হতে দিন। এরপর আঁচ কমিয়ে নির্ধারিত সময় রান্না করলে ডাল সমানভাবে সেদ্ধ হয় এবং অতিরিক্ত ফুটে বাইরে বের হওয়ার ঝুঁকিও কমে।

কুকারের গ্যাসকেট ও ভেন্ট নিয়মিত পরিষ্কার করুন: অনেক সময় ডাল উপচে পড়ার কারণ রান্নার ভুল নয়, বরং কুকারের রাবার গ্যাসকেট ঢিলা হয়ে যাওয়া বা ভেন্টে ময়লা জমে থাকা।

তাই নিয়মিত গ্যাসকেট, সেফটি ভালভ ও ভেন্ট পরিষ্কার করুন। প্রয়োজন হলে পুরোনো গ্যাসকেট বদলে ফেলুন।

শেষে ফোড়ন দিলে স্বাদ বাড়ে: ডাল সেদ্ধ হয়ে গেলে আলাদা প্যানে সামান্য তেল বা ঘি গরম করে রসুন, শুকনা মরিচ, জিরা, পেঁয়াজ বা পছন্দের মসলা দিয়ে ফোড়ন তৈরি করুন। এরপর তা ডালের মধ্যে মিশিয়ে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিলে স্বাদ ও সুগন্ধ অনেক বেড়ে যায়।

যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন-

  • কুকার অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না।
  • প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি দেবেন না।
  • গ্যাসকেট বা ভেন্ট নোংরা অবস্থায় ব্যবহার করবেন না।
  • ডাল না ধুয়ে রান্না করবেন না।
  • ডালের ধরন অনুযায়ী রান্নার সময় পরিবর্তন করতে ভুলবেন না।

প্রেশার কুকারে ডাল রান্না করলে সময় ও জ্বালানি দুটোই বাঁচে। তবে সুস্বাদু ও ঠিকমতো সেদ্ধ ডাল পেতে হলে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ডাল ধোয়া, প্রয়োজন হলে ভিজিয়ে রাখা, সঠিক পরিমাণ পানি ব্যবহার করা, কুকার অতিরিক্ত না ভরা এবং নিয়মিত কুকারের যত্ন নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাস আপনার প্রতিদিনের ডাল রান্নাকে আরও সহজ ও নিখুঁত করে তুলতে পারে।

সূত্র: বাংলা নিউজ ১৮