হট্টগোল ও হাতাহাতিতে কেন্দ্রীয় যুবদলের জরুরি বৈঠক স্থগিত

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
হট্টগোল ও হাতাহাতিতে কেন্দ্রীয় যুবদলের জরুরি বৈঠক স্থগিত
ছবি : সংগৃহীত

সদ্য ঘোষিত জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। তবে বাদানুবাদ, হট্টগোল ও হাতাহাতিতে বৈঠক স্থগিত করা হয়।

রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম বিতর্ক, একে অপরকে দোষারোপ এবং শেষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা স্থগিত করতে বাধ্য হন শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিতর্কের সূত্রপাত ও শীর্ষ নেতাদের দ্বিমত

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সদ্য ঘোষিত কমিটিতে স্থান পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতার 'বিতর্কিত' ও 'নিষ্ক্রিয়' ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য এই জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু আলোচনা শুরু হতেই কমিটির মান ও মর্যাদা নষ্টের দায় কার, এমন প্রশ্নে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির দায় একজন আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ফিরোজ আবদুল্লাহর পদ নিয়ে হট্টগোল

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, যুবদল সভাপতি যখন নবঘোষিত কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিগত আন্দোলনে তার ভূমিকা নিয়ে জানতে চান। তখনই হট্টগোলের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে যখন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সহসভাপতি ফিরোজকে উদ্দেশ করে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তুমি সভাপতির স্বাক্ষরে সহসভাপতি হয়েছ।’ এই মন্তব্যের পর ক্ষোভে ও অপমানে বৈঠককক্ষ ত্যাগ করেন ফিরোজ আবদুল্লাহ।

পাল্টা জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলয়ের পক্ষ থেকেও কমিটির অন্য তিন সহসভাপতি মো. কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা সুমন এবং মনিরুল ইসলাম সোহাগের বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয়তা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়।

জ্যেষ্ঠতা ও পদপ্রাপ্তি নিয়ে কোন্দল

বৈঠকে কক্সবাজারের আঞ্চলিক রাজনীতি ও জ্যেষ্ঠতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। নবঘোষিত কমিটির সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া অভিযোগ করেন, কক্সবাজারে তাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি সভায় উত্থাপন করলে অপর সহসভাপতি মাহমুদুস সালেহীনসহ বেশ কয়েকজন নেতা ক্ষুব্ধ হন। তারা পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, ‘মাঠে রাজনীতি না করেই অনেকে বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন।’

শেষ পর্যন্ত মিটিং স্থগিত

জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ নেতাদের এই পাল্টাপাল্টি যুক্তি, একে অপরকে দোষারোপ এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির উপক্রম হলে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। চরম বিশৃঙ্খলা, হট্টগোল ও হইচইয়ের মধ্যে কোনো এজেন্ডা শেষ না করেই যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জরুরি বৈঠকটি স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন প্রকাশ্য কোন্দল ও হাতাহাতির ঘটনায় যুবদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।