Advertisement

ফ্রান্সে ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ দূতাবাসের

সাইফুল ইসলাম রনি, ফ্রান্স
ফ্রান্সে ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ করার উদ্যোগ দূতাবাসের
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও গতিশীল করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট, দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এসব উদ্যোগ নেওয়া হলো। এর মাধ্যমে সেবা সহজ করার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রবাসীদের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণ নথি নয়, এটি বৈধ বসবাস, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবার মূল পরিচয়পত্র। তাই সময়মতো পাসপোর্ট নবায়ন করা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে সীমিত জনবল ও মাত্র কয়েকটি বায়োমেট্রিক বুথ থাকায় প্রবাসীদের জন্য অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে লিয়োঁ, মার্সেই, তুলুজ, বোর্দো, নিস ও স্ট্রাসবুর্গের মতো দূরবর্তী শহর থেকে প্যারিসে এসে অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আবেদনের অগ্রগতি জানতে তথ্য পাওয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়েও ক্ষোভ ছিল প্রবাসীদের মধ্যে।

এ বিষয়ে প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিল এশিয়া পোস্টকে বলেন, ই-পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি আবেদন সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রীয় অনুমোদনের পর প্রিন্ট করা হয়। আবেদনকারীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হলেও সেবার মান বৃদ্ধিতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।

সামাজিকমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া আসার পর গত ১৬ জুলাই দূতাবাস কমিউনিটি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সে বৈধতার (রেগুলারাইজেশন) প্রক্রিয়ায় থাকা প্রবাসীদের জন্য ২৫ জুলাই এক বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়।

আগামী ৮ ও ২২ আগস্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এমন বিশেষ সেবা দেওয়া অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দূতাবাস।

দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, বিশেষ সেবার প্রথম দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ৮৬ জন আবেদনকারীকে সরাসরি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ সময় দূতাবাসের কর্মীদের পাশাপাশি কমিউনিটির কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকও কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী নুরুল আমিন জানান, দীর্ঘ তিন মাস অপেক্ষার পর তিনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেয়েছেন। দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিললে প্রবাসীদের কষ্ট অনেক কমে যাবে। তবে অপর প্রবাসী আরাফাত রহমান বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি অতটা খারাপ নয়। তিনি নিজে নতুন নিয়মে আবেদন করে নির্ধারিত সময়েই পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও এ নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন। বিএনপি নেতা রেজাউল করিম রেজা বলেন, বর্তমান সিস্টেমে দ্রুত কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না এলে বিকল্প বা আগের পদ্ধতি ভেবে দেখা যেতে পারে। তবে সামাজিকমাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় নেতিবাচক প্রচারের সমালোচনা করেন তিনি।

বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দূতাবাসের নাগরিক সেবা আগের চেয়ে অনেক গতিশীল হয়েছে, তবে সেবার মান আরও বাড়ানো দরকার। অন্যদিকে এনসিপি নেতা অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ই-পাসপোর্ট সেবা নিয়ে নেতিবাচক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর ক্ষেত্রে শুরুতে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও দ্রুত সমাধান, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রবাসীদের পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।