মিশরের ক্ষোভের মাঝেও কেন টিকে গেল আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মিশরের ক্ষোভের মাঝেও কেন টিকে গেল আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল
ছবি: সংগৃহীত

মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোল ঘিরে। মিশরের দাবি, যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার গোলের ঠিক আগে তাদের পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যান, ভিএআর থেকেও সিদ্ধান্ত বদলানো হয়নি। এরপরই পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে আর্জেন্টিনা।

শেষ ষোলোর ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ ভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশর কোচ হোসাম হাসান। তাঁর অভিযোগের মধ্যে ছিল একটি বাতিল গোল এবং হামদি ফাথিকে ঘিরে পেনাল্টি দাবি, যার পরপরই আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল আসে।

বিতর্কিত ঘটনাটি আর্জেন্টিনার বক্সে। মিশরের দাবি, হামদি ফাথিকে টেনে ধরা হয়েছিল। কিন্তু রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের পেনাল্টি দেননি। ভিএআরও তাঁকে অন-ফিল্ড রিভিউর জন্য ডাকেনি। এই জায়গাতেই সিদ্ধান্তের মূল ব্যাখ্যা।

আইএফএবির ভিএআর প্রোটোকল অনুযায়ী, মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হলে ভিডিও রিভিউতে সেটি স্পষ্ট ভুল হিসেবে ধরা পড়তে হয়। পেনাল্টি বা নো পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ভিএআরের আওতায় পড়ে ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি শারীরিক সংস্পর্শই পেনাল্টি নয়। রেফারির সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হলে ভিএআরকে নিশ্চিত হতে হয়, মাঠের সিদ্ধান্তে বড় ও পরিষ্কার ভুল হয়েছে।

তাই আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল বাতিল হতে হলে মূলত দুইটি পথ ছিল। প্রথমত, আর্জেন্টিনার আক্রমণেই যদি অফসাইড, হ্যান্ডবল, বল বাইরে যাওয়া বা আক্রমণকারী দলের ফাউল থাকত। দ্বিতীয়ত, গোলের আগে মিশরের পেনাল্টি দাবি যদি ভিএআরের চোখে স্পষ্ট ভুল হিসেবে ধরা পড়ত।

কিন্তু সেই পর্যায়ের হস্তক্ষেপ হয়নি। অর্থাৎ ভিডিও অফিশিয়ালরা ফাথির ঘটনায় পেনাল্টি না দেওয়াকে মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর মতো স্পষ্ট ভুল হিসেবে দেখেননি। ফলে খেলা চলতে থাকে। এরপর আর্জেন্টিনার পাল্টা আক্রমণে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণটির ভেতরেও গোল বাতিল করার মতো কোনো অপরাধ ধরা পড়েনি। তাই গোলটি বৈধ থাকে।

মিশর অবশ্য সিদ্ধান্তটি মানতে পারেনি। কোচ হোসাম হাসান রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, মিশর পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য ছিল এবং তাদের একটি গোলও বাতিল করা হয়েছে। এপি-র ম্যাচ রিপোর্টেও মিশরের বাতিল গোল ও রেফারিং নিয়ে অসন্তোষের কথা এসেছে। তবে মাঠের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আর্জেন্টিনাই ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

সোজা কথায়, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল বাতিল হয়নি কারণ ভিএআর মিশরের পেনাল্টি দাবিকে মাঠের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর মতো স্পষ্ট ভুল হিসেবে দেখেনি এবং এনজোর গোলের আক্রমণে বাতিল করার মতো কোনো অপরাধ পাওয়া যায়নি। বিতর্ক তাই থাকছে, কিন্তু নিয়মের ব্যাখ্যায় গোলটি বৈধ হিসেবেই টিকে গেছে।