হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন ফিফা সভাপতি

বিশ্বকাপের হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার দাবি, ম্যাচের মাঝপথে বাধ্যতামূলক পানি পানের বিরতি রাখার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি খেলাধুলা ও খেলোয়াড় সুরক্ষার বিষয়। এর সঙ্গে ফিফার কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই।
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচে দুইবার করে তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হচ্ছে। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি এবং দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড়দের পানি পান ও অল্প বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। উত্তর আমেরিকার গরম আবহাওয়া এবং দীর্ঘ টুর্নামেন্টের চাপ মাথায় রেখেই এই নিয়ম আনা হয়েছে বলে শুরু থেকেই জানিয়েছে ফিফা।
তবে মাঠে নিয়মটি চালুর পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক সমর্থকের অভিযোগ, এই বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে। কিছু সম্প্রচারমাধ্যম এই তিন মিনিটের বিরতিতে বিজ্ঞাপন দেখানোয় সমালোচনা আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, হাইড্রেশন ব্রেক আসলেই খেলোয়াড়দের জন্য, নাকি টেলিভিশন সম্প্রচারে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরির জন্য।
ইনফান্তিনো সেই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। ফিফা সভাপতি বলেন, ‘এটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়। আমরা এক ডলারও বেশি আয় করছি না।’ তার ব্যাখ্যা, ফিফার সব বাণিজ্যিক চুক্তি টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই হয়ে গেছে। তাই এই বিরতি থেকে ফিফার অতিরিক্ত আয় হচ্ছে না।
ফিফা সভাপতির দাবি, সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে খেলার ন্যায্যতা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষার কথা ভেবেই। তার ভাষায়, ‘এটি পুরোপুরি খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষার বিষয়।’
ইনফান্তিনোর যুক্তি, শুধু গরমের জন্য নয়, ৩৯ দিনের টুর্নামেন্টে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে পারে। এমন সূচিতে খেলোয়াড়দের জন্য মাঝপথে অল্প বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সব ম্যাচে সব দলকে একই শর্তে খেলানো।
ফিফা সভাপতির ব্যাখ্যায় আরেকটি দিকও এসেছে। কোনো ম্যাচে গরম বেশি বলে কোচ যদি মাঝপথে কৌশল বদলের সুযোগ পান, আর অন্য ম্যাচে সামান্য কম গরমের কারণে সেই সুযোগ না থাকে, সেটি প্রতিযোগিতার ভারসাম্যের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। একই নিয়ম সব ম্যাচে থাকলে দলগুলো আগে থেকেই জানে কখন বিরতি আসবে, কীভাবে পরিকল্পনা করতে হবে।
সমালোচকদের যুক্তি অবশ্য ভিন্ন। ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল বলেছেন, এই বিরতি ম্যাচের ছন্দ তাঁর ধারণার চেয়েও বেশি বদলে দিচ্ছে। তার মতে, দুই অর্ধের স্বাভাবিক প্রবাহ ভেঙে খেলা চার ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এতে ম্যাচের গতি ও চরিত্রে প্রভাব পড়ছে।
উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার আপত্তিও একই জায়গায়। তার মতে, ফুটবলকে দুই অর্ধের বদলে চার ভাগে ভাগ করলে খেলার মৌলিক চরিত্র বদলে যায়। কোচরা এই বিরতিকে কৌশলগত নির্দেশনা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহে বাড়তি হস্তক্ষেপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক নিয়মটির উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাতিল করছেন না। প্রচণ্ড গরমে খেলোয়াড়দের জন্য পানি পানের বিরতি দরকার হতে পারে, তা তারা মানছেন। তবে তাদের প্রশ্ন, অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা আবহাওয়া বা ছাদযুক্ত স্টেডিয়ামেও একইভাবে বাধ্যতামূলক বিরতি রাখা কতটা প্রয়োজন।
ফিফা অবশ্য নিয়মের একরূপতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। ইনফান্তিনোর বক্তব্য, একেক ম্যাচে একেক নিয়ম হলে সেটি আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। একই নিয়ম সব ম্যাচে থাকলে কেউ আবহাওয়ার কারণে আলাদা সুবিধা বা অসুবিধায় পড়ে না।
তিনি আরও দাবি করেছেন, হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের তীব্রতা কমায়নি। বরং খেলোয়াড়েরা পুরো ৯০ মিনিট উচ্চমানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারছেন। তবে সমর্থকদের একাংশের চোখে এই বিরতি এখনো অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন দেখানোর কারণে টেলিভিশন দর্শকদের কাছে বিষয়টি বাণিজ্যিক মনে হচ্ছে।






