বিশ্বকাপে ফিরতে মরিয়া রাফিনিয়া

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে রাফিনিয়াকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যাওয়া বার্সেলোনা উইঙ্গারের বিশ্বকাপে ফেরাও এখন সময়ের সঙ্গে লড়াই। তবে আশা ছাড়ছেন না রাফিনিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে আবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে চোট পান রাফিনিয়া। প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে পরীক্ষায় তার ডান ঊরুর পেছনের পেশিতে চোট ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তার বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তার না থাকা নিশ্চিত। ব্রাজিল যদি শেষ ৩২-এ ওঠে, সেই ম্যাচেও তার ফেরার সম্ভাবনা কম বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর। তুলনামূলক বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে কোয়ার্টার ফাইনাল, যদি ব্রাজিল সেখানে পৌঁছাতে পারে এবং রাফিনিয়ার পুনর্বাসন প্রত্যাশামতো এগোয়।
রাফিনিয়া নিজের বার্তায় লিখেছেন, তিনি সব সময় নিজের কাছ থেকে অনেক কিছু দাবি করেন এবং প্রতিদিন উন্নতির জন্য কাজ করেন। এই মানসিকতা বদলাবে না। তিনি আরও জানান, সুস্থ হয়ে দ্রুত ফিরতে নিজের ক্ষমতার মধ্যে থাকা সবকিছু করবেন। সতীর্থদের পাশে থাকতে চান, ব্রাজিলের লক্ষ্য পূরণে লড়তে চান এবং জাতীয় দলের জার্সির সম্মান রাখতে চান।
রাফিনিয়ার জন্য চোটটি আরও হতাশার, কারণ গত এক বছরে এটি তার চতুর্থ হ্যামস্ট্রিং সমস্যা। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে বারবার পেশির চোটে থামতে হয়েছে তাকে। গত মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে অনেক ম্যাচ মিস করেছিলেন তিনি। এপ্রিলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকেও ছিটকে পড়েছিলেন। পরে মে মাসে ফিরে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের হয়ে মৌসুমের শেষ দিকে গোলও করেছিলেন।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ম্যাচে পানামা ও মিসরের বিপক্ষে খেলেছিলেন রাফিনিয়া। এরপর মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। কিন্তু হাইতির বিপক্ষে ৪০ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে মাতেউস কুনিয়ার জোড়া গোল ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে ব্রাজিল প্রথম জয় তুলে নেয়।
রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তির সামনে এখন ডান প্রান্তের সমাধান খোঁজার চ্যালেঞ্জ। হাইতির বিপক্ষে তার বদলি হিসেবে নেমেছিলেন বোর্নমাউথ উইঙ্গার রায়ান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে ব্যবহার করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। একই সঙ্গে নেইমারও স্কোয়াডে ফিরেছেন, যদিও তিনি শুরু করবেন কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
ব্রাজিলের জন্য স্কটল্যান্ড ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে আনচেলত্তির দল। জয় পেলে গ্রুপসেরা হওয়ার পথও শক্ত হবে। কিন্তু রাফিনিয়ার চোট ব্রাজিলের আক্রমণ পরিকল্পনায় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে ডান প্রান্তে তার গতি, চাপ প্রয়োগ এবং ভেতরে কেটে এসে শট নেওয়ার ক্ষমতা আনচেলত্তির দলের জন্য বড় অস্ত্র ছিল।
তবু রাফিনিয়ার বার্তায় ভেঙে পড়ার সুর নেই। বরং আছে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা। এখন অপেক্ষা, পুনর্বাসন কত দ্রুত এগোয় এবং ব্রাজিল টুর্নামেন্টে কতদূর যায়। রাফিনিয়া নিজে লড়াই চালিয়ে যেতে চান। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে তাকে আবার দেখা যাবে কি না, তা আপাতত সময়ই বলবে।





