হালান্ড-পরীক্ষার আগে সুখবর পেল ব্রাজিল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হালান্ড-পরীক্ষার আগে সুখবর পেল ব্রাজিল
রাফিনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগামীকালের ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন রাফিনিয়া। তবে বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড এখনও পুরোপুরি ফিট নন, তাই শুরু থেকে খেলবেন না। প্রয়োজন হলে বেঞ্চ থেকে নেমে কিছু সময় খেলতে পারেন তিনি।

চলতি বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ডান ঊরুর হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছিলেন রাফিনিয়া। সেই চোটের কারণেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ এবং জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। প্রায় দুই সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পর শুক্রবার ব্রাজিল দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফেরেন ২৯ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাফিনিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, রাফিনিয়া দ্রুত সেরে উঠছেন। শতভাগ ফিট না হলেও ম্যাচের স্কোয়াডে থাকার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন।

আনচেলত্তি বলেছেন, ‘রাফিনিয়া খুব ভালোভাবে সেরে উঠছে। সে এখনও শতভাগ ফিট নয়, তবে বেঞ্চে থাকার মতো অবস্থায় আছে। প্রয়োজনে কয়েক মিনিট খেলতে পারবে এবং নির্দিষ্ট কিছু মুহূর্তে দলের কাজে লাগতে পারে।’

ব্রাজিলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। কারণ, নকআউট পর্বে বেঞ্চের শক্তিও অনেক সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। নরওয়ের মতো শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ যদি শেষ দিকে আটকে থাকে, রাফিনিয়ার গতি, কাট-ইন, দূরপাল্লার শট বা সেট পিস থেকে অবদান ব্রাজিলের জন্য কার্যকর হতে পারে।

তবে রাফিনিয়ার ফেরা মানেই একাদশে সরাসরি জায়গা নয়। চোটের আগে তিনি ডান দিকের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলকে নতুন সমন্বয় খুঁজতে হয়েছে। জাপানের বিপক্ষে কঠিন ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শেষ মুহূর্তের গোল ব্রাজিলকে জিতিয়েছে। রায়ান, মাতেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আক্রমণভাগও আনচেলত্তির পরিকল্পনায় আছে।

এর সঙ্গে আছে লুকাস পাকেতার অনুপস্থিতির ধাক্কা। জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই বাঁ ঊরুতে চোট পান পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে তাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। ফলে আনচেলত্তিকে মাঝমাঠ ও আক্রমণের ভারসাম্য নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। রাফিনিয়া বেঞ্চে থাকলে অন্তত ম্যাচের ভেতরে আক্রমণ বাড়ানোর একটি পরীক্ষিত বিকল্প থাকবে।

ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় চিন্তা অবশ্য আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তাকে শুধু বক্সে আটকানো নয়, বল যেন তাঁর কাছে না পৌঁছায়, সেটাই হবে ব্রাজিলের মূল পরিকল্পনা। আনচেলত্তিও হালান্ডকে সামলানোর বিষয়টিকে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ইতিহাসও স্বস্তির নয়। আগের চার দেখায় ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি। দুই ড্র, দুই হার। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল সেলেসাওরা। এবার শেষ ষোলোর মঞ্চে সেই অস্বস্তিকর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ এসেছে।