নরওয়ের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে ব্রাজিল

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
নরওয়ের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে ব্রাজিল
ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে নতুন সমীকরণ। জাপানের বিপক্ষে কঠিন জয়ের ম্যাচে চোট পেয়েছেন লুকাস পাকেতা। হ্যামস্ট্রিং চোটে নরওয়ের বিপক্ষে তাকে পাচ্ছে না ব্রাজিল। ফলে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ভারসাম্য ঠিক করতে একাদশে পরিবর্তন আনতেই হচ্ছে আনচেলত্তিকে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় নিউ জার্সিতে শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ দলে আছেন আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো বড় তারকা। তাই শুধু আক্রমণে গতি বাড়ানো নয়, নরওয়ের শারীরিক শক্তি, ক্রস ও সেট পিস আক্রমণ সামলানোর পরিকল্পনাও রাখতে হচ্ছে ব্রাজিল কোচকে।

পাকেতার জায়গায় কে খেলবেন, আনচেলত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেননি। তবে ইঙ্গিত বলছে, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শুরু থেকে খেলার সম্ভাবনাই বেশি। আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করেছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের পর নরওয়ের বিপক্ষে আনচেলত্তির ডায়মন্ড ছকের বাঁ দিকে তাঁকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

মার্তিনেল্লির অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের খেলার ধরনেও পরিবর্তন আনতে পারে। পাকেতা থাকলে মাঝমাঠে বল ধরে রাখা, পাসের ছন্দ তৈরি ও জায়গা বদলে আক্রমণ সাজানোর সুযোগ থাকে। মার্তিনেল্লি খেললে ব্রাজিল পাবে বেশি গতি, সরাসরি দৌড় এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ পেছনে ঠেলে দেওয়ার ক্ষমতা। নরওয়ের রক্ষণভাগের বিপক্ষে সেটিই হয়তো কাজে লাগাতে চাইবেন আনচেলত্তি।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশে গোলপোস্টে থাকতে পারেন আলিসন। রক্ষণে ডানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস ও ডগলাস সান্তোস। মাঝমাঠে কাসেমিরোর সঙ্গে ব্রুনো গিমারায়েস থাকবেন। পাকেতার জায়গায় মার্তিনেল্লি ঢুকলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও গতিময় হবে। সামনে রায়ান, মাথেউস কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দেখা যেতে পারে।


নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বড় দুশ্চিন্তা হালান্ড। তাকে শুধু বক্সে আটকানো নয়, বলই যেন তাঁর কাছে না পৌঁছায়, সেটাই হবে মূল পরিকল্পনা। ব্রুনো গিমারায়েসও বলেছেন, হালান্ডের কাছে বল যাওয়া ঠেকাতে হবে। কারণ এক বল পেলেই ম্যাচের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

রাফিনিয়া চোট কাটিয়ে ফিরলেও শুরু থেকে খেলার মতো অবস্থায় নেই। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট নন, তবে বেঞ্চে থাকতে পারেন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু সময় খেলতে পারেন। এতে ব্রাজিলের হাতে দ্বিতীয়ার্ধে ডান দিকের আক্রমণে অভিজ্ঞ বিকল্প থাকবে।

জাপানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ব্রাজিলকে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছিল। পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেরে, এরপর শেষ দিকে মার্তিনেল্লির গোলেই জয় পায় সেলেসাওরা। সেই ম্যাচের পারফরম্যান্স পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি। তবে নকআউট ফুটবলে ফলটাই শেষ কথা, আর ব্রাজিল সেই কাজটি করেছে।

নরওয়ের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ আরও আলাদা। ব্রাজিল এখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি। ইতিহাসে আগের চার দেখায় দুই ড্র ও দুই হার সেলেসাওদের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপেও নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। এবার সেই অস্বস্তিকর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ আনচেলত্তির দলের সামনে।

পাকেতার অনুপস্থিতি তাই শুধু একটি পরিবর্তন নয়, ব্রাজিলের পরিকল্পনার বড় পরীক্ষা। মার্তিনেল্লির গতি, ব্রুনোর সৃজনশীলতা, কাসেমিরোর নিয়ন্ত্রণ আর ভিনিসিয়ুসের একক দক্ষতা মিলিয়ে ব্রাজিলকে নরওয়ের বিপক্ষে নিজেদের সেরা ভারসাম্য খুঁজে নিতে হবে।

শেষ ষোলোর এই ম্যাচে জয় পেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে ব্রাজিল। কিন্তু তার আগে হালান্ডের নরওয়ে, পুরোনো ট্যাবু এবং পাকেতাহীন একাদশের পরীক্ষাই সেলেসাওদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ: আলিসন; ডানিলো, মারকিনিওস, গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, ডগলাস সান্তোস; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি; রায়ান, মাথেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।