সালাহদের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামতে পারে মেসিরা

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর এবার আর্জেন্টিনার সামনে মিশর পরীক্ষা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মঙ্গলবার আটলান্টায় মোহাম্মদ সালাহদের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের আগে একাদশ নিয়ে মুখ খোলেননি লিওনেল স্কালোনি, তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবর, দলে একাধিক পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি সরাসরি একাদশ জানাননি। তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমে যে সম্ভাব্য দল নিয়ে আলোচনা চলছে, সেটি বাস্তবতার কাছাকাছি। তার কথায়, দল ঠিক করা আছে, কিন্তু খেলোয়াড়দের না জানিয়ে সাংবাদিকদেরও সেটি জানাতে চান না।
প্রথম পরিবর্তন আসতে পারে রক্ষণে। ফাকুন্দো মেদিনার জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। চোট কাটিয়ে ফেরার পর কেপ ভার্দের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স কোচিং স্টাফকে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছে। অন্যদিকে মেদিনা আগের ম্যাচে শারীরিকভাবে ভুগেছিলেন। তাই বাঁ প্রান্তে অভিজ্ঞ তাগলিয়াফিকোকে ফেরানোর সম্ভাবনা আছে।
আক্রমণভাগেও বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন আর্জেন্টিনা কোচ। প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে লাউতারো মার্তিনেসকে মেসির পাশে দেখা গেলেও মিশরের বিপক্ষে সেই জায়গায় ভাবা হচ্ছে হুলিয়ান আলভারেসকে। আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড এখনো এবারের আসরে নিজের সেরা ছন্দে নেই। তবু তার দৌড়, চাপ তৈরি করা এবং জায়গা বদলানোর ক্ষমতা সালাহদের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
মধ্যমাঠে তৃতীয় পরিবর্তনের সম্ভাবনাও আছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি নেমে ভালো প্রভাব ফেলায় একাদশে ফিরতে পারেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তিনি ঢুকলে বাদ পড়তে পারেন থিয়াগো আলমাদা। এতে অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার কিছুটা সামনে উঠে খেলতে পারেন, আর এনজো ফের্নান্দেস ও রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন পারেদেস।
এমন পরিবর্তনে আর্জেন্টিনার কাঠামোও বদলাতে পারে। মেসি ও আলভারেস সামনে থাকলে দলটি ৪-৪-২ বা ৪-১-৩-২ ধাঁচে খেলতে পারে। পারেদেস নিচে থাকলে আর্জেন্টিনা বল দখলে বেশি স্থিরতা পাবে, আর ম্যাক আলিস্টার সামনে গিয়ে মেসির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারবেন।
সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা একাদশ: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো; রদ্রিগো দে পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার; লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেস।
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সতর্ক থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর ক্লান্তি বড় বিষয় হতে পারে। মিশরও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউট পেরিয়ে এসেছে। তাই শুধু কৌশল নয়, শারীরিক পুনরুদ্ধারও এই ম্যাচে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্কালোনি নিজেও ম্যাচের আগে সতর্ক। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে পরিষ্কার কোনো জয়ের দাবিদার নেই। বড় দলগুলোও প্রত্যাশিত আধিপত্য দেখাতে পারছে না। ভ্রমণ, গরম, মাঠের অবস্থা ও খেলোয়াড়দের ম্যাচের চাপ, সবকিছু মিলিয়ে টুর্নামেন্টকে কঠিন করে তুলেছে।
তবু ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও মানের বিচারে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে। মেসির ফর্ম, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ম্যাচ সামলানোর অভিজ্ঞতা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু নকআউট ফুটবলে একটি ভুলই যথেষ্ট। সালাহর মিশরের বিপক্ষে তাই একাদশে বদল এনে আরও ভারসাম্য খুঁজছেন স্কালোনি।




