জার্মানিকে বিদায় করে পেনাল্টি রহস্য জানালেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
জার্মানিকে বিদায় করে পেনাল্টি রহস্য জানালেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার
প্যারাগুয়ে গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে প্যারাগুয়ে। আর এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। পেনাল্টি শুটআউটে দুটি শট ঠেকিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন তিনি।

বোস্টনের ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ছিল ১-১ সমতায়। এরপর টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ে জেতে ৪-৩ ব্যবধানে। জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ ও নিক ভলটেমাডের শট ঠেকান গিল। জোনাথন টাহর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত হোসে কানালের পেনাল্টিতে নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।

ম্যাচ শেষে গিল জানান, এই সাফল্যের পেছনে ছিল আগেভাগে করা বিস্তারিত প্রস্তুতি। জার্মানির সম্ভাব্য পেনাল্টি টেকারদের নিয়ে আলাদা করে কাজ করেছিলেন তিনি ও তার দল।

গিল বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে বিশ্লেষণ করেছি। প্রতিটি দিক, প্রতিটি খুঁটিনাটি দেখেছি।’ দুটি পেনাল্টি ঠেকাতে পারা দলের শেষ ষোলোয় ওঠার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও জানান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক।

২৬ বছর বয়সী গিল খেলেন আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোতে। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা খুব বেশি ছিল না। কিন্তু বড় মঞ্চে, তাও জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে, তিনি দেখালেন অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা।

বিশ্বকাপের আগে প্যারাগুয়ের গোলবারে জায়গা পাকা ছিল না গিলের। দলে জায়গার লড়াই ছিল কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেন তিনি। এরপর বিশ্বকাপে গিলই হয়ে ওঠেন প্যারাগুয়ের গোলপোস্টের ভরসা।

গিলের ক্লাব ক্যারিয়ারেও আছে অদ্ভুত মোড়। সান লরেঞ্জো একসময় অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কেইলর নাভাসকে নেওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাবটি গিলের ওপরই আস্থা রাখে। সেই সিদ্ধান্তই তার জন্য প্রথম দলে জায়গা পাকা করার বড় সুযোগ হয়ে ওঠে।

তার আগে পথটা সহজ ছিল না। রিজার্ভ দল থেকে উঠে এসে ধীরে ধীরে সান লরেঞ্জোর মূল দলে জায়গা করেছেন গিল। অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই নিজেকে তৈরি করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো বোস্টনের টাইব্রেকারে তাঁকে আরও ঠান্ডা মাথার করে তুলেছিল।

এই বিশ্বকাপেও শুরুটা ভালো হয়নি প্যারাগুয়ের। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল তারা। কিন্তু এরপর তুরস্কের বিপক্ষে জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ড্রয়ে গোল হজম করেননি গিল। গ্রুপ পর্বে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে, আর জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে তিনি হয়ে ওঠেন প্যারাগুয়ের নায়ক।