Advertisement

‘সব ভুলে যেতে’ বলছিলেন মেসি, কী হয়েছিল আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে?

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘সব ভুলে যেতে’ বলছিলেন মেসি, কী হয়েছিল আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে?
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ছবি: গেটি ইমেজ

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের একটি ভিডিও ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। সেখানে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা গেছে এনজো ফার্নান্দেজকে। সতীর্থদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। একপর্যায়ে সবাইকে সবকিছু ভুলে শুধু ফুটবলে মনোযোগ দিতে বলেন তিনি।

স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে আসে ভিডিওটি। মাঠে যাওয়ার জন্য ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। নিকোলাস গঞ্জালেস, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, মার্কোস সেনেসি, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে সেখানে ছিলেন এনজো।

ভিডিওতে এনজোর চোখ লাল ও অশ্রুসিক্ত মনে হচ্ছিল। অন্য খেলোয়াড়দের মুখেও ছিল চাপের ছাপ। তখন মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘চলো ছেলেরা, শান্ত থাকো। আমাদের শান্ত থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

সতীর্থেরা তার চারপাশে জড়ো হলে মেসি বলেন, ‘সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলি। কেবল খেলার কথাই ভাবি।’

এরপর ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে টানেলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন মেসি। সামনে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরা দেখে হঠাৎ ঘুরে পেছন দিকে হাঁটতে থাকেন তিনি। সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলা চালিয়ে গেলেও সেই অংশের শব্দ ভিডিওতে শোনা যায়নি।

এনজোর আবেগাপ্লুত চেহারা ও মেসির ‘সবকিছু ভুলে যাও’ কথাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। ফাইনালের আগে দলটি কোনো অপ্রত্যাশিত খবর পেয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

তবে আর্জেন্টিনা শিবিরে গোপন কোনো ঘটনা ঘটেছিল, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়, কোচ কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি ও ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলো অনুমান হিসেবেই থাকছে।

ফাইনালের চাপ, প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতি এবং এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হতে পারে, এমন আবেগের কারণেই ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। ‘সবকিছু ভুলে যাও’ কথাটির মাধ্যমে মেসি সতীর্থদের বাইরের আলোচনা ও চাপ থেকে সরিয়ে খেলায় মনোযোগ ফেরাতে চেয়েছিলেন বলেই ধারণা।

ম্যাচের পরও আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ছিল শোকাবহ পরিবেশ। কোচ লিওনেল স্কালোনি পরে জানান, ড্রেসিংরুমে যতটা কান্নার ছিল, সবটাই কেঁদেছেন তিনি। খেলোয়াড়েরাও কারও সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে নীরবে স্টেডিয়াম ছাড়েন তারা।

ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভাঙে আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফেরান তোরেস।