মেটলাইফ থেকে আরও একবার অশ্রুসিক্ত বিদায় মেসির

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন ও বেদনাময় অধ্যায়গুলোর অন্যতম নীরব সাক্ষী নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। ঠিক এক দশক আগে এই মাঠেই কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
সময়ের চাকা ঘুরে সেই মেটলাইফেই আবারও অশ্রুসিক্ত হতে হলো মহাতারকাকে। এবার হয়তো প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কিন্তু ট্র্যাজেডির গভীরতা আর বুকভাঙা অনুভূতির তীব্রতা যেন হুবহু এক।
ফুটবল মাঠে অর্জনের খাতায় আর কিছুই বাকি নেই মেসির। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮টি শিরোপা জিতে তিনি অনেক আগেই নিজেকে নিয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের সেরাদের কাতারে।
দীর্ঘদিন দেশের হয়ে বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা না জেতার যে আক্ষেপ বা খোঁচা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াত, গত কয়েক বছরে সেটিও রাজকীয়ভাবে মুছে গেছে। ২০২১ ও ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক দুটি কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি ও ফিনালিসিমা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে সম্ভাব্য সব স্বপ্নই ছোঁয়া হয়ে গেছে তার।
তবু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাস এলেই ফিরে আসে এক চরম বেদনাময় স্মৃতি। ২০১৬ সালের ২৬ জুন কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে বসেছিলেন মেসি। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতায় শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে মাঠের মধ্যেই কান্নায় ভেঙে পড়ে আকস্মিকভাবে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতেই সেদিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, দেশের হয়ে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছেন, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জেতাটা যেন তার ভাগ্যে নেই।
ভাগ্য অবশ্য বদলেছিল, কিন্তু ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে সেই চেনা মেটলাইফ স্টেডিয়ামই লিওনেল মেসিকে আরও একবার উপহার দিল একরাশ নীল বেদনা আর অশ্রুসিক্ত বিদায়।
২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারার পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হন লিওনেল মেসি। টানা দুটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ব্যর্থতার পর আর্জেন্টিনার একটি অংশ তার দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
তীব্র সমালোচনা ও হতাশার সেই সময়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। ২০১৬ সালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে হারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা ছিল সেই জমে থাকা কষ্টেরই বহিঃপ্রকাশ।
তবে সেই বিদায় স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস পর সমর্থকদের অনুরোধ, সতীর্থদের আহ্বান ও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মেসি। জাতীয় দলে ফিরে আসেন। বদলে দেন আর্জেন্টিনার ইতিহাস।
দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা ঘুচিয়ে ২০২১ সালে জেতান কোপা আমেরিকা। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২২ ফিনালিসিমা ও ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাও এনে দিয়ে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল, অনেকের মতে সর্বকালের সবচেয়ে সফল, অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
.png)





