রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের
ভলোদিমির জেলেনস্কি, ডোনাল্ড ট্রাম্প(মাঝে) ও ভ্লাদিমিরি পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এবার সরাসরি মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করতে সাহায্য করার কথা বলেছেন। রোববার (৫ জুলাই) ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তুরস্কের আংকারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে শনিবার (৪ জুলাই) দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৯০ মিনিটের একটি ফোনালাপ হয়। সেখানে ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধে নিজের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা জানান।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপটিকে বেশ গঠনমূলক এবং পেশাদার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। উশাকভ বলেন, যুতক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ দ্রুত শেষ করতে এবং সংকট কাটিয়ে ওঠার সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জবাবে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এই সংঘাতের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান চায়। তবে সেই সমাধানে অবশ্যই রাশিয়ার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গিকে যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

একই দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার যুদ্ধের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জেলেনস্কি।

বার্তা আদানপ্রদান অ্যাপ টেলিগ্রামে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ শেষ করার একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে আমেরিকার সংকল্পের একটি নিষ্পত্তিমূলক অর্থ থাকবে। আগামী ৭ ও ৮ জুলাই আংকারায় ৩২টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ট্রাম্প ও জেলেনস্কি উভয়ই সেখানে এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের অগ্রগতি বেশ ধীরগতির। ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে কোনো পক্ষই বড় ধরনের সুবিধা করতে পারছে না। ড্রোনগুলো ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে এবং দুপক্ষের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ক্রেমলিন সহকারী উশাকভ অভিযোগ করেছেন, কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা সংঘাতের মেয়াদ বাড়াতে চায়। তারা বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের ওপর নির্ভর করছে। তিনি সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন, যার কারণে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।

তবে উশাকভের দাবি, রুশ বাহিনী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে এবং একের পর এক এলাকা জয় করছে।

সম্প্রতি পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কস্তিয়ান্তিনিভকা শহর নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠেছে। রুশ কমান্ডাররা শহরটি দখলের দাবি করলেও জেলেনস্কি এবং ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, কিয়েভের বাহিনী এখনও শহরটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এর আগে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি বৈঠকের আহ্বান জানালেও ক্রেমলিন তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

উশাকভ আরও জানান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার এই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা আবারও মস্কো সফরের জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে বর্তমানে আমেরিকার পুরো মনোযোগ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের দিকে থাকায় ইউক্রেন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন, ইরান সংঘাতেও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

সূত্র: আলজাজিরা