বাড়ছে মন্ত্রিসভার পরিধি, গুরুত্ব পাচ্ছেন পরীক্ষিত ও ত্যাগীরা

বাড়ছে মন্ত্রিসভার পরিধি, গুরুত্ব পাচ্ছেন পরীক্ষিত ও ত্যাগীরা
ওপর থেকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কবির রিজভী, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মওদুদ আলমগীর পাভেল, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুন নবী খান সোহেল এবং মাহাদী আমিন। ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়তে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। মূলত জনবান্ধব ও প্রশাসনের গতি বাড়াতে ঈদুল আজহার পরে বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই এই সম্প্রসারণ হতে পারে।

সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হচ্ছে যেসব মন্ত্রণালয়ে কাজের চাপ বেশি, সেখানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা এবং একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব একটি মাত্র দপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

ধারণা করা হচ্ছে, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কয়েকজন উপমন্ত্রীর পদও সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত একজন সদস্যকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাজেটের পরই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করার সম্ভাবনা বেশি।

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন যেসব হেভিওয়েট নেতা

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কয়েকজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ এবং দু-একজন তরুণ মুখকে দেখা যেতে পারে। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। তিনজন মন্ত্রীর দায়িত্ব কমানোর পাশাপাশি একটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি সম্প্রতি সরকারের নজরে এসেছে।

ইতোমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী এবং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরেক মন্ত্রীর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে তাদের দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও একজনকে মন্ত্রিসভায় আনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় নোয়াখালী অঞ্চলের কোনো প্রতিনিধি না থাকায়, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নামও নতুন মন্ত্রিসভায় আলোচনায় এসেছে। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় আসতে পারেন যারা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে,টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলের মতো ত্যাগী নেতারা।

এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকলেও নতুন মন্ত্রিসভায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

বর্তমানে হুইপের দায়িত্ব পালন করা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর নামের পাশাপাশি পাবনা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও দোহার-নবাবগঞ্জের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, কুমিল্লার সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন খুলনার সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং সিরাজগঞ্জের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিমের মধ্য থেকে যে কেউ।

টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। বগুড়ার এই নেতা প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসতে পারেন নতুন মুখ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানও মন্ত্রিসভায় আসছেন বলে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদেও আরও দুজন সদস্য বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কবে নাগাদ নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। তিনি যদি মনে করেন বর্তমান সদস্য সংখ্যা নিয়েই সরকার পরিচালনা করবেন, তাহলে সেটিই করবেন। আবার কাজের সুবিধার্থে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর প্রয়োজন মনে করলে সেটিও করতে পারেন।’

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমানই ভালো বলতে পারবেন। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দায়িত্ব দেবেন, সেটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে কোনো উপমন্ত্রী নেই। তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে স্পিকার এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে।

পরে সংসদ সদস্য আহমেদ আজম খানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে ভূমিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিষয় :asiapost