logo

আসুন সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করি: প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

আসুন সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করি: প্রবাসীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কথা বলেন। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সবাই ভালো থাকতে পারি।

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের উদ্দেশে বলতে চাই, আজ আমাদের কী দাবি আছে, সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবতে হবে দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে।

তিনি বলেন, দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি একটি অনুরোধ থাকবে- আজ থেকে আমরা চিন্তা করি, দেশের জন্য আমরা কী করতে পারি। এটাই হোক আমাদের আজকের ভাবনা। আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশাই রাখছি।

গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের একটি ব্যক্তি ও গোষ্ঠী শুধু নিয়েছে, বিনিময়ে দেশকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে। দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শাংগ্রি-লা হোটেলে পৌঁছে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

দেশ গঠনে নিজের চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমি আমার চিন্তাগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। দোয়া করবেন, যাতে আমরা এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।

তিনি পর্যায়ক্রমে তার পরিকল্পনাগুলো ব্যাখ্যা করেন। উপস্থিত প্রবাসীরা মনোযোগ দিয়ে তার বক্তব্য শোনেন এবং পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানান।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে এর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় কথা, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, কুয়ালালামপুরে আসার পথে শহরের রাস্তাগুলো আমার কাছে অনেক পরিষ্কার মনে হয়েছে। আর এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে আমার দেশের ভাইয়েরাই অবদান রাখছেন। তারা যদি এখানে এত সুন্দরভাবে কাজ করতে পারেন, তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না?

১/১১-এর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় এবং পরবর্তী সময়েও আমার, আমার মা এবং আমার ভাইয়ের সঙ্গে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, যা কল্পনাও করা যায় না।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী। চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু তাতে কারও কোনো উপকার হবে না। তাই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রবাসী। দেশের প্রতি আপনাদের যেমন দাবি আছে, তেমনি কর্তব্যও রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী হিসেবে যেমন আপনাদের দেশের প্রতি দায়িত্ব আছে, তেমনি দেশে থাকা আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আসুন, আমরা কী দাবি করতে পারি, সেই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবি দেশের প্রতি আমাদের কী কর্তব্য আছে। দেশ থেকে শুধু কী নেব, সেই মানসিকতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে আমি মালয়েশিয়ার সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলব। দেশটির আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করীম।

দুই দিনের সরকারি সফরে থাকা তারেক রহমান সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন।