আ.লীগের বিষয়ে সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেন বিভিন্ন জেলায় অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিস কক্ষের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সব সময় তৎপর থাকবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা লক্ষ্য করায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হয়। এখন সেনাবাহিনীর মোতায়েন ইন্টেলিজেন্সের তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকাসহ যে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর। এই ছয় জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী।
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ অবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের’ আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এদিন রাজধানীজুড়ে ২০০টিরও বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে। মহানগরের সব কটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলো মাঠে সক্রিয় থাকবে। এর মধ্যে ডিবি (গোয়েন্দা শাখা) এবং সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিট সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং আইএডি (ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাবে।
সূত্র আরও জানা যায়, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য মহানগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। এ ছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফোর্স স্ট্যান্ডবাই বা রিজার্ভ রাখা হবে। মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করবে ডিএমপির ১৮ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা ও ফোর্স।






