রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দীর্ঘদিনের মামলাজট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বিচারপতি এবং বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে অধস্তন আদালতের শূন্যপদ পূরণে ৫০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটির কাছে আসে। সেখানে প্রতিটি মামলা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাহারের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে, যাতে প্রকৃত রাজনৈতিক মামলাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সরকার মামলা প্রত্যাহার করতে পারে না। কোনো মামলায় আপিল বিচারাধীন থাকলে প্রথমে সেই আপিলের নিষ্পত্তি হতে হবে।

আপিল নিষ্পত্তির পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য পাঠানো হবে এবং রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সাজার মওকুফ বা ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদেও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে এবং আইন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করবে। ফলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মামলা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই; তবে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সাজার মওকুফ বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা লাভের সুযোগ রয়েছে।

সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান মামলাজট কমাতে নতুন বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন বিপুলসংখ্যক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দিতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

নিম্ন আদালতের বিচারক সংকটের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক।

খালি পদগুলো দ্রুত পূরণে সরকারের চলমান পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯তম ও ২০তম বিজেএস: এ ছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এই চাহিদাপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করে যাচ্ছে বলেও আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।