সারা দেশে শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে যেসব শিশু

এশিয়া পোস্ট নিউজ
সারা দেশে শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে যেসব শিশু
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর সারা দেশে আবারও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশেষ এ ক্যাম্পেইন চলবে। ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ ক্যাপসুল’ খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

Advertisement

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে শিশুদের বয়সভেদে দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। একটি করে লাল রঙের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের।

এদিকে কোন শিশু এই ক্যাপসুল পাবে আর কারা পাবে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জাতীয় কর্মসূচির।

যারা এই ক্যাপসুল পাবে না

১. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিশুর বয়স এখনও ছয় মাস পূর্ণ হয়নি, তাদের এই ক্যাম্পেইনের ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।

২. গত ২৮-৩০ দিনের মধ্যে যেসব শিশু অন্য কোনো কারণে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়েছে, এই ক্যাম্পেইনে তাদের পুনরায় ক্যাপসুল দেওয়া হবে না।

৩. কোনো শিশু গুরুতর অসুস্থ থাকলে বা হাসপাতালে ভর্তির মতো অবস্থায় থাকলে তাকে ক্যাপসুল দেওয়া যাবে না।

শারীরিক সমস্যা থাকলে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, শিশুদের হালকা জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া বা অপুষ্টি থাকলেও সাধারণত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে।

জানা গেছে, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে ১৯৭৩ সাল থেকে দেশে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। এটি তখন ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে কার্যক্রমটিকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ কে সংযুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে এটিকে আলাদা একটি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন, যা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা বা এনএনএস অপারেশন প্ল্যানের অধীনে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২৬ সাল থেকে পুনরায় চালু করা হয়েছে।