বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব জোরদার, বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস মালয়েশিয়ার

দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, শিক্ষা, পর্যটন, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
পাশাপাশি আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া।
সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল রোববার (২১ জুন) আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়ায়ও এটি তার প্রথম সফর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দলিল বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বাংলাদেশের জন্য এটিকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার বিষয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও অভিহিত করেন তিনি।
প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
উভয় নেতা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী বাংলাদেশ। তাঁরা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
উভয় দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের একটি কাঠামোবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতিকেও তাঁরা স্বাগত জানান।
টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়ে গেছে। তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে তাদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
দুই নেতা মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর দিকে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক উপকারী, ব্যাপক এবং অগ্রগামী চুক্তির জন্য ২০২৭ সালে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনার অগ্রগতিতে তাদের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন, যা বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য অনুশীলনকে প্রতিফলিত করে।
দুই প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেসিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা দুই দেশের বেসরকারী খাতের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতার সুবিধার্থে কাঠামোগত সংলাপ এবং ধারণা বিনিময়ের মূল দ্বিপাক্ষিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসাবে কাজ করবে, যার ফলে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক প্রসারিত হবে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে নেতারা টেলিযোগাযোগ, শক্তি, পরিকাঠামো (যেমন, রাস্তা, সেতু, উন্নত এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো), বন্দর এবং লজিস্টিক, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, অর্ধপরিবাহী, স্মার্ট উত্পাদন এবং শিল্পজুড়ে অন্যান্য উচ্চ মূল্যসহ অগ্রাধিকার খাতজুড়ে বৃহত্তর সহযোগিতা উৎসাহিত করেন।
বৈঠকে নেতারা উভয় দেশের প্রাসঙ্গিক সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ প্রচার সংস্থা, শিল্প খেলোয়াড় এবং ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিনিয়োগ সহজীকরণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিভা বিকাশ, ব্যবসায়িক মেলামেশা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়ন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খল অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করা এবং উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক উপকারী বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শ্রম সহযোগিতা
উভয় নেতা জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদানকে স্বাগত জানান। তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় এবং ভাগাভাগি করা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রসারে ভূমিকা পালন করছে।
শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবকে মালয়েশিয়া স্বীকৃতি দিয়েছে। বিদেশি শ্রম গ্রহণের বিষয়ে মালয়েশিয়ার বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে নতুন বিদেশি কর্মী কোটার অনুমোদনের বিষয়টি বর্তমানে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে, যাচাই করা নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয়তা এবং সেক্টরাল সিলিংয়ের ভিত্তিতে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই জাতীয় যেকোনো অনুমোদিত কোটার জন্য উভয় দেশই নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে নিশ্চিত করার জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। শুধু বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগ সংস্থাগুলোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
উভয় দেশ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক উপকারী অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) আহ্বান করেছে। বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়নের এবং উভয় দেশের বর্তমান চাহিদা মেটাতে একটি নতুন, আপডেট হওয়া সমঝোতা স্মারক খসড়া করার ভিত্তি স্থাপনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়।
হালাল শিল্পে সহযোগিতা
দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামি অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক গুরুত্বের স্বীকৃতি দেন এবং বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করতে একমত হন।
তারা মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতাকে স্বাগত জানান এবং হালাল সনদ প্রদান, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, গবেষণা, উদ্ভাবন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
শিক্ষা, পর্যটন ও দক্ষতা উন্নয়ন
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় বর্তমানে অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারা উচ্চশিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন।
তারা যোগ্যতার/সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ ও ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হন।
জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতাও আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল। উভয় পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বিষয়ক বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সম্মত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরসহ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা জোরদারে জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি ও বেসরকারি খাতের অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়েও উৎসাহ দেয় দুই দেশ।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রশংসা করে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি কার্যকর করার অঙ্গীকার করেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম।
তারা সামরিক বিজ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও প্রতিরক্ষা শিল্প অংশীদারত্বে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হন। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি (জেসিডিসি) বৈঠক আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
উভয় পক্ষ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ প্রশিক্ষণ, কৌশলগত মহড়া ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, মানবপাচার ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের কথাও জানায় উভয় দেশ।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই নেতা। মালয়েশিয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে এবং বাংলাদেশের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে।
নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতি সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করে কুয়ালালামপুর।
অন্যদিকে আসিয়ান, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং জাতিসংঘসহ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করে বাংলাদেশ।
বৈশ্বিক ইস্যুতে অভিন্ন অবস্থান
উভয় দেশের দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবপাচার, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং অন্যান্য প্রচলিত ও অপ্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনের ওপরও জোর দেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের অঙ্গীকার করে দুই দেশ। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সফরকালে তিনি ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।








