বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে এখনও জবাব পায়নি বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বেনজীরকে ফেরানোর বিষয়ে এখনও জবাব পায়নি বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনও দেশটির সরকারের তরফ থেকে কোনো জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের দূতাবাস সেসব নথি ইউএই সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটিই হচ্ছে সর্বশেষ অবস্থা। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের তরফ থেকে আমাদের এখনও কিছু জানানো হয়নি, তবে আশা করি শিগগিরই তারা জবাব দেবে।’

শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীরকে গ্রেপ্তারের খবর দুবাই থেকে মেইলে জানানোর পর তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য ৩০ দিন সময় দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই সব নথিপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বেনজীর অন্য দেশের পাসপোর্ট বহন করছেন বলে শোনা যাচ্ছে—এ অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে কি না, জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখনও ইউএই সরকারের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছি। তার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, তিনি ওখানকার ফেডারেল পুলিশের হেফাজতেই আছেন। এর বাইরে অন্য কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপে আইজিপি ও র‌্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি গত ১৪ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেছিলেন।

হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামিকে ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ওয়ারেন্ট তখনই পাঠিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি এবং আশা করি তাদের ফেরত পাব। এরপর তদন্ত সম্পন্ন করে যথাযথভাবে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে।’

বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকের সামনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর, ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে যে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছেন। পরে চলতি বছরের ৮ মার্চ ভারতের পুলিশ এই দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে এবং এর সপ্তাহখানেকের মাথায় তাদের পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন।

পুশ ইন ইস্যুতে বিজিবির সতর্কতা

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অব্যাহত ‘পুশইন’ (অনুপ্রবেশ) চেষ্টার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুশইন ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক আছি। আমাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করছে। প্রতিটি সীমান্তে যেখানেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা হচ্ছে, সেখানেই তারা শক্ত বাধা দিচ্ছে।’

একই সঙ্গে সীমান্তে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক আটক থাকলে কূটনৈতিক চ্যানেলে ভারতকে সেই তালিকা দিতে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের নাগরিকত্ব যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফাই) করব। এরপর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বেশকিছু ভারতীয় নাগরিক পুশইন হয়ে বাংলাদেশে চলে আসায় আদালতের মাধ্যমে তাদের যথাযথ জিম্মায় পাঠানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পুশইন প্রসঙ্গে মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘সীমান্তের এই ইস্যুটি দুই দেশের মধ্যে সবসময় একই রকম থাকে না। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর নতুন রাজ্য সরকার (স্টেট গভর্নমেন্ট) দায়িত্ব নিয়েছে, তাই এটি হয়তো তাদের কোনো নির্বাচনী এজেন্ডা হতে পারে। তারা দেখাতে চাইছে যে বিদেশি নাগরিক থাকলে ফেরত পাঠাবে; কিন্তু এই একতরফা প্রক্রিয়াটি মোটেও যথাযথ নয়।’

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে তারা ‘পুশ ব্যাক’ করেছেন—এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন,‘এ ব্যাপারে আপনাদের কাছে কি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান আছে যে কতজন পুশইন হয়েছে? আমাদের কাছে তারা যে সংখ্যা উল্লেখ করছেন, সেরকম কোনো তথ্য নেই। কারণ, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে পুশইন হতে দিইনি। আমাদের বিজিবি সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’