প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে কাজ করছে সরকার

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে নাইক্ষ্যংছড়ির এ খামারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, খামারটির অন্যতম বিশেষত্ব ছিল গয়াল সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে এসব প্রাণী বিতরণের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে সরকার সেই লক্ষ্যকে আরও সম্প্রসারিত করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বিভিন্ন খামারির মাঝে ছাগল ও ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব খামারে গবেষণার মাধ্যমে কীভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের আরও সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিগত সময়ে যথাযথ পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে খামারটির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার খামারটির সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তার মতে, একজন প্রান্তিক মানুষ যদি ছাগল, ভেড়া, গরু কিংবা কিছু মুরগি পেয়ে সেগুলো বাড়ির আশপাশে পালন করতে পারেন, তাহলে তিনি নিজেই উপার্জনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন এবং স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
প্রান্তিক মানুষের এই আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নাইক্ষ্যংছড়ি আঞ্চলিক কেন্দ্রের গয়াল শেড, হরিণ শেড এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের শেড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি গয়ালের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাণীর সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিএলআরআইয়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরে তিনি স্থানীয় খামারিদের মাঝে মুরগি, ছাগল, ছাগলের পাঠা, ভেড়া ও ভেড়ার পাঠা বিতরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক ড. এবিএম মুস্তানুর রহমান, পরিচালক ড. জিল্লুর রহমান, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার প্রমুখ।






