একক নেটওয়ার্কে আসছে দেশের সব টোল প্লাজা: সেতু বিভাগ

দেশের সব সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে এবং টানেলের ভিন্ন ভিন্ন ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) সিস্টেমকে একটি একক ও সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকদের ভোগান্তি ও জটিলতা কমাতে একাধিক ট্যাগের পরিবর্তে শুধু বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সরবরাহ করা একটি একক আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ জুন সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অংশীজন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি অংশীজন, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের আর্কিটেকচার বা নকশা তৈরি করা হয়েছে। অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুত সময়ে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নতুন এই পরিকল্পনায় বিদ্যমান সব আরএফআইডি ভিত্তিক ইটিসি সিস্টেমকে এপিআইয়ের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। সামগ্রিক কর্মপরিধি বিবেচনা করে সিস্টেমটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ বা তাদের অধীনে কোনো সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে একটি সমন্বিত মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই নিবন্ধন, টোলের তথ্য, ডিজিটাল পেমেন্ট ও ট্র্যাফিক অ্যালার্টসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা মিলবে। সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি গ্রাহক নিবন্ধন, টোল পরিশোধব্যবস্থা সহজীকরণ এবং আর্থিক লেনদেনের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, দেশের সব টোল বুথে ডিজিটাল ও অটোমেটেড প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ দিকনির্দেশনা রয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সময় সাশ্রয় হবে এবং রাজস্ব আদায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে স্মার্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ক্যাশলেস ট্রানজেকশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টোল প্লাজাগুলোতে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা চালু করা হলে যানবাহন চলাচলের সময় ও জ্বালানির অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। অংশীজনদের এই ফলপ্রসূ আলোচনার আলোকে খুব দ্রুত সরকারের কাছে একটি চূড়ান্ত, যুগোপযোগী ও কার্যকর রোডম্যাপ এবং সুপারিশমালা পেশ করা হবে।
সভায় বর্তমানে পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার ও কর্ণফুলী টানেলসহ দেশের বিভিন্ন টোল প্লাজায় ব্যবহৃত পৃথক পৃথক পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা এবং এর ফলে জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের 'ক্যাশলেস সোসাইটি' গঠনের লক্ষ্য অর্জনে এই একক টোল ব্যবস্থা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরটিএ, এনটিএমসি, এটুআই, সওজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বুয়েট, আইইউটি, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






