রশিতে বাঁধা আড়াই বছরের মেহেদীর শৈশব, লুৎফুজ্জামান বাবরের মহত্ব

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সচিবালয়। এর পাশ ঘেঁষে ফুটপাতে বসে খেলছে ছোট্ট একটি শিশু। কোমরে তার রশি দিয়ে একটি খুঁটির সঙ্গে বাধা। পাশেই প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছেন মধ্যবয়সী এক নারী। কাছে যেতেই জানা গেল ওই শিশু ও তার মায়ের পরিচয়।
মুক্তা বেগম নামের ওই নারীর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ। স্বামী ছেড়ে যাওয়ায় তিন সন্তান নিয়ে চরম বাস্তবতার মুখোমুখি এই অসহায় নারী। সহায় সম্বল হারিয়ে রাজধানীতে প্লাস্টিক কুড়িয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন জীবনসংগ্রাম। ছোট ছেলের নাম মেহেদী। তার বয়স আড়াই বছরের কাছাকাছি। সড়কের ফুটপাতই যেনো তার ঘরবাড়ি, খেলার মাঠ। আর যানবাহন, রিকশার হর্ণই মিউজিক।
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক কথা বলে ওই নারীর সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে মুক্তা বেগম বলেন,কী করতাম! বোতল টুকাইতে গেছি। পুলাডা রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। গাড়ি-ঘোড়ার ভয়ে বাইন্দা যাওন ছাড়া উপায় আছে? পুলাডার খাওন হয় না। সারা দিন এহানে শুইয়া–বইসা থাহে। আমি বোতল টুকাইয়া দশ টেহা, বিশ টেহা পাই। কেউ কিছু দিলে খাওয়াইতে পারি, না দিলে না খাইয়্যা থাহে।
মুক্তা বেগম আরও জানান, তার প্রথম স্বামীর ঘরে দুই ছেলেমেয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ঘরের একমাত্র সন্তান এই মেহেদী। তবে মেহেদী হওয়ার আগেই স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। সব মিলিয়ে এক চরম অসহায়ত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাদের পরিবার।
এমন মানবিক দৃশ্য রাজধানীতে অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও। আড়াই বছরের শিশু নিয়ে এই মায়ের মানবেতর জীবনযাপনের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে সচিবালয়ের পাশের এই ফুটপাতে ছুটে এসেছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। বাড়িয়ে দিয়েছেন সহায়তার হাত। ছোট্ট শিশু মেহেদীসহ তার পুরো পরিবারের পুনর্বাসনের দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন নিজের কাঁধে।
সাবেক এই স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শিশু মেহেদীর ভবিষ্যতের জন্য পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মা মুক্তা বেগমের স্থায়ী আয়ের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা এবং বড় ছেলেকে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ করার পর তার জন্যও একটি উপযুক্ত কর্মসংস্থানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।
ফুটপাতের অবর্ণনীয় কষ্ট আর কোমরের নির্মম দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে আড়াই বছরের শিশু মেহেদী এবং তার পরিবার এখন এক নতুন আলোর পথের যাত্রী।
সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ওই ফুটপাত ধরে চলাচলরত পথচারীরাও। তারা বলছেন, রাজধানীর ফুটপাতে পড়ে থাকা অসহায় মানুষগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। লুৎফুজ্জামান বাবরের মতো যদি দেশের এমপি-মন্ত্রীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের দায়িত্ব নিতো তাহলে ফুটপাতে আর কোনো অসহায় মানুষ থাকতো না। কোনো পথশিশুকেও মাদকাসক্ত ও ড্যান্ডি খেয়ে পড়ে থাকতে হতো না। এমনকী রাজধানীতে ছিনতাইও কমে যেতো।
.png)






