যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার মধ্যপ্রাচ্যের আরও এক দেশে ইরানের হামলা

চলতি বছরের মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এবার সিরিয়ায় প্রথমবার সামরিক হামলা চালাল ইরান।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) পূর্ব সিরিয়ার একটি এলাকায় তেহরান এ হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্র এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ খবর জানা গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, সম্প্রতি ইরানের ইরানশাহর এলাকায় ইরানি সেনাদের হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অবশ্য ইরানের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান আল-তানফ ঘাঁটির কাছাকাছি অঞ্চলে একটি হামলা চালিয়েছে ঠিকই। তবে তা সরাসরি মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করেনি। ওই হামলায় কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলেও সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিরিয়া, জর্ডান এবং ইরাকের ত্রিমুখী সীমান্ত সংযোগস্থলে এই ঘাঁটি অবস্থিত। কৌশলগত আল-তানফ ঘাঁটি থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তারা সম্পূর্ণভাবে সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়া এই আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আসছে। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে গ্রাস করেছে। যার মধ্যে লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত চলছে। অন্যদিকে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একের পর এক ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে গত মার্চ মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ঘোষণা দিয়েছেন, আক্রান্ত না হলে তার দেশ কোনো দ্বন্দ্বে জড়াবে না। লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী থিংক ট্যাংক ‘চথাম হাউস’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, সিরিয়া কোনো পক্ষের দ্বারা সরাসরি আক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের বাইরে থাকবে।
তবে এই হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের হাতে রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও বৈরী আচরণ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে কোনো ধরনের তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
.png)





