logo

তাহসিফকে শনাক্তে যেভাবে কাজে আসে আইফোন

তাহসিফকে শনাক্তে যেভাবে কাজে আসে আইফোন
তাহসিফ সৌরি। ছবি: ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া

রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তার মরদেহ উদ্ধারের আগে তিনি যে তাহসিফ, তা শনাক্তের সহায়ক হিসেবে কাজ করে তার ব্যবহৃত আইফোন।

প্রথমে মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার করা হয় একটি মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও বন্ধ আইফোন। কিন্তু মরদেহের নাম-পরিচয় কেউ জানেন না। পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে নৌ পুলিশ। ঠিক তখনই ক্লু মেলে আইফোনে।

ওয়াটারপ্রুফ আইফোনটি চার্জে লাগানোর পর সচল হয়। এরপর এতে একটি কল আসে। অন্য প্রান্তে যিনি ছিলেন, তিনি নিজেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের এক স্বজন বলে পরিচয় দেন। তার সঙ্গে কথা বলেই উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা নিশ্চিত হন, মরদেহটি বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির।

টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘ফোনটি চার্জে লাগানোর একটু পরে যখন সচল হয়, তখন প্রথম কলটিই দেয় তার একজন রিলেটিভ। তার সঙ্গে কথা বলার পর আমরা ভিক্টিমের পরিচিয় নিশ্চিত হতে পারি। অবশ্য তার ফোনের ওয়ালপেপারের নিজের ছবি রেখেছিলেন তিনি।’

এর আগে গত বুধবার বিকালে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বিমান বাহিনীর সাবেক ওই কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা তার লাশ ভাসমান অবস্থায় পাই। তার কাছে একটা মোবাইল ফোন ছিল। সেটির মাধ্যমে আমরা তার পরিচয় শনাক্ত করি।’

এ আইফোন দিয়ে কি ঘটনার রাতে তাহসিফের চলাচলসহ অন্যান্য কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া সম্ভব কি না বা আইফোন মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, এমন প্রশ্নে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি তানভীর হাসান জোহা গণমাধ্যমকে বলেন, ফোন চার্জ দিয়ে চালু করে পরিচয় শনাক্ত করার বিষয়টি তদন্তের একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে পরিচয় শনাক্তকরণ এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দুটি ভিন্ন বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া আইফোনটির যথাযথ ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কল হিস্ট্রি, সম্ভাব্য লোকেশন ডেটা, যোগাযোগের তথ্য, অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তথ্য ঘটনার আগের সময়ের একটি ডিজিটাল টাইমলাইন তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে ফোনটির প্রযুক্তিগত অবস্থা, তথ্যের প্রাপ্যতা এবং ফরেনসিক পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখতে হবে।’

এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমার মতে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে ফোনটি উদ্ধারের পর থেকে কীভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা ও পরীক্ষা করা হয়েছে, তার যথাযথ ডকুমেন্টেশন এবং চেইন অব কাস্টডি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে কারও তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে আগাম প্রশ্ন তোলা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ফরেনসিক ফলাফল, ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি, টেলিকমিউনিকেশন রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামতের সমন্বিত বিশ্লেষণই একটি নির্ভরযোগ্য তদন্তে সহায়ক হতে পারে।’

এদিকে শুক্রবার দুপুরে তাহসিফের বন্ধু পরিচয় দেওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা পরিদর্শন করেছেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এলাকাটি ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত। সেখানে সকালে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে যেটি তাহসিফের বলেই মনে করছেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘দীপ বলছে, তাদের পুলিশের পোশাক পরা কেউ ধাওয়া দিয়েছে। কে ধাওয়া দিল, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। দীপ অনেক কিছু বলেছে, আমরা সব কিছু যাচাই-বাছাই করছি।’