সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর, ৩ আসামির রিমান্ড শুনানি বুধবার

আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতে আবেদনের ওপর শুনানির দিন রাখা হয়েছে আগামী বুধবার।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তিন আসামিরা হলেন— মো. মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) এবং মুন্না (২৯)।
এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ আসামিদের আদালতে হাজির করে এ আবেদন করেন। তবে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন বুধবার। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন। মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে এজাহার নামীয় আসামিসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে বাদীর অভিযোগ সত্য বলে প্রমান পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তের বিঘ্ন হওয়ার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। আসামিদের জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এমতাবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক সুব্রত দেবনাথ জানান, তিন আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন পশ্চিম মাটিকাটায় ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী জনতাবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
আরও জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদী প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া নামে একজন বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
