নোয়াখালীতে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৮০ ভাগ গ্রাহক

এশিয়া পোস্ট নিউজ
নোয়াখালীতে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ৮০ ভাগ গ্রাহক

কালবৈশাখী ঝড়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে সড়কের পাশে থাকা গাছপালা উপড়ে পড়ায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে জেলার প্রায় সোয়া আট লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৮০ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছে। একটানা প্রায় গত ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকাই বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। অতিরিক্ত গরমে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। 

জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সেটি বজ্রপাতসহ কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নেয়। এতে জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাচা গাছপালা ভেঙে পড়ে। এ সময় ওসব গাছপালার পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কবিরহাট উপজেলার ফলাহারী গ্রামের বাসিন্দা নুর নবী জানান, রাত ১২টার দিকে ঝড়ো বাতাস শুরু হওয়ার পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ঝড়ে আশপাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়েছে। সকাল থেকে কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের কর্মীরা গাছপালা অপসারণের কাজ করতে দেখেছি। তবে আমাদের এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। 

সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জানান, রাত থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে ইলেকট্রনিক জিনিস নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে ফ্রিজে রাখা খাবারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের চার্জও প্রায় শেষ পর্যায়ে। চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার পর লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা বন্ধ হয়ে যাবে। সমস্যাগুলো বিদ্যুৎ কর্মীরা দ্রুত সমাধান করে লাইন সচল করার দাবি জানান তিনি।

সেনবাগ উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সকাল থেকে প্রচণ্ড গরম, এর মধ্যে নেই একটানা বিদ্যুৎ। হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা অনেকটা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা। 

সুবর্ণচর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ডিজিএম আরব আলী শেখ বলেন, জেলার বেগমগঞ্জ থেকে ৬৪ কিলোমিটার ঘুরে সুবর্ণচরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘ এই লাইন চেক করতে সময় লাগে, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি অল্প সময়ের মধ্যে লাইন চালু করতে। 

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সরোয়ার জাহান জানান, পুরো জেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৮ লাখ ২০ হাজার জন। গতরাতে ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন এবং খুঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লাইন ছিঁড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা চলছে। আমাদের বিদ্যুৎ কর্মীরা ভোর থেকে বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। আশা করছি বিকেলের মধ্যে বেশির ভাগ লাইন সচল করা যাবে।