জুনে নোয়াখালীতে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯৭

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
জুনে নোয়াখালীতে বিশেষ অভিযানে অস্ত্র-মাদকসহ গ্রেপ্তার ৯৭
ছবি : সংগৃহীত

নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের মাসব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অভিযানকালে আট কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা এবং চার হাজার ৬১৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচটি সামারি ট্রায়ালে ছয়জন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়; যাদের কাছ থেকে ১০ গ্রাম গাঁজা ও ৫ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।

মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও পুলিশ বড় সাফল্য পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, ১১টি ছোরা, একটি কাটার মেশিন এবং দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আদালতের ইস্যু করা এক হাজার দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ৭৪টি সাজা পরোয়ানা কার্যকর করেছে পুলিশ।

যানবাহন চোর চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনটি মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চারটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং চারটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজেও ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে জেলা পুলিশ। মোবাইল হারানোর ঘটনায় বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ৬৬৩টি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে ২৬০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলা ট্রাফিক পুলিশ জুন মাসে ৬৩৭টি প্রসিকিউশন দিয়েছে। এতে মোট ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়, যার মধ্যে ২২ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, মাদক, ছিনতাই, চুরি ও সন্ত্রাস দমনে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। জনগণের সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা পেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হয়। তাই পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল হাসান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। যেকোনো ধরনের অপরাধের তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহি উদ্দিন বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের ফলেই অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে ব্যাপক সফলতা আসছে। প্রতিদিন আমাদের উদ্ধার অভিযান চলছে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে আইনের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক শওকত বলেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগের পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের সচেতন করতেও নিয়মিত টহল চলছে। যানজট নিরসনে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, জনগণের সহযোগিতা নিয়ে একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও জনবান্ধব নোয়াখালী গড়ে তুলতে পুলিশের এই অভিযান ও সেবামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসির উদ্দিন বলেন, মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে অপরাধ দমনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। নিরাপদ নোয়াখালী গড়ে তুলতে পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।

বিষয় :নোয়াখালী