সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল, ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলার অভ্যন্তরে কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৭ দশমিক ২২ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ছাতকে ৮০ মিলিমিটার ও তাহিরপুরে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেলেও ছাতক উপজেলা পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজীব হোসাইন বলেন, সুনামগঞ্জ এলাকায় আরও তিন দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তিন দিন পর বর্ষাকালের স্বাভাবিক বৃষ্টি নিয়মিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী দু-তিন দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতে খেটে খাওয়া, দিনমজুর ও শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা বিপাকে পড়েছেন। তবে আজ শনিবার সকাল ১০টার পর সুনামগঞ্জের আকাশ কোথাও কোথাও কিছুটা পরিষ্কার দেখা গেছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগর এলাকার অটোরিকশাচালক বাবুল মিয়া বলেন, তিন-চার দিন বৃষ্টি হওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে মানুষ কম এসেছে। জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি। অন্য সময়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা উপার্জন করা সম্ভব হলেও গত কয়েক দিন অনেক কম হয়েছে।

সুনামগঞ্জ শহরের ওয়েজখালী এলাকার নদী তীরের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, শুক্রবার রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি সামান্য কমেছে। যতটুকু কমেছে, ভারী বৃষ্টি হলে এর চেয়ে বেশি আবার বাড়তে পারে। তবে গতকালের চেয়ে আজকের আবহাওয়া একটু ভালো দেখা যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. ইমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার এক হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং এক হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পর্যাপ্ত চাল ও শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।