ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেএমসি বিভাগের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ (জেএমসি) বিভাগ ২০ বছরে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে ‘আমাদের বছর কুড়ি’ নামের বিশেষ পুনর্মিলনী ও দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সাভারের বিরুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে পূর্তি উদযাপন করা হয়।
‘বিশের বাঁশিতে সুদিন আসবে’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জেএমসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী দুই দশকের অর্জন, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে উদযাপন করতে একত্রিত হন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভাগের দুই দশকের পথচলা, অ্যালামনাইদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন প্রজন্মের তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে।
সকাল ৯টায় অতিথিদের আগমন ও নিবন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (আইসিআর) উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করে বক্তব্য দেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা বিভাগীয় প্রধান ও উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান।
এরপর বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. আব্দুল কাবিল খান, জেএমসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাকীব মৃধা, বিভাগীয় প্রধান ড. আফতাব হোসেন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. লিজা শারমিন ও উপ-উপাচার্য চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান বলেন, ‘সাফল্যের পথে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পথ ও ধারণা রয়েছে। বিভিন্ন পেশা ও কর্মক্ষেত্রে কর্মরত আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে আমরা চালু করছি ‘অ্যালামনাই ৩৬০’ নামে একটি অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম, যা বর্তমান শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী—উভয়ের জন্যই অসাধারণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
আয়োজন প্রসঙ্গে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, ‘একটি বিভাগের প্রকৃত শক্তি ও সাফল্য প্রতিফলিত হয় তার প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাফল্যে। গত দুই দশকে জেএমসি শুধু দক্ষ গণমাধ্যমকর্মী নয়, দায়িত্বশীল নাগরিক ও যোগাযোগ পেশাজীবী গড়ে তুলেছে। আমাদের বছর কুড়ি সেই গৌরবময় যাত্রারই উদযাপন।’
উদ্বোধনী পর্ব শেষে কেক কাটার মাধ্যমে বিভাগের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের অ্যালামনাই তাদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিভাগের স্মৃতিচারণ করেন।
আয়োজন নিয়ে বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বাংলানিউজ২৪-এর সিনিয়র নিউজরুম এডিটর শারমিন আজাদ শান্তা বলেন, ‘২০ বছর—একটা বিভাগের জন্য শুধু একটি মাইলফলক নয়, অসংখ্য স্বপ্ন, স্মৃতি আর মানুষের গল্পের নাম। ক্যাম্পাস বদলে গেছে, ধানমন্ডির কয়েকটা বিল্ডিং থেকে আশুলিয়াই বিশাল পরিসরে গড়িয়েছে, সে চেনা মুখগুলোর সঙ্গে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এক ছাদের নিচে এসে চমৎকার লাগছে। পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে মনে রাখার মতো নতুন কিছু মুহূর্ত যোগ হলো।’
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল নেটওয়ার্কিং সেশন, বর্তমান শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে ওপেন মাইক, র্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুই প্রজন্মের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বিভাগের ঐতিহ্য ও সম্প্রসারণকে ভিন্ন আঙিকে উদযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ড. কাবিল খান বলেন, ‘জেএমসি বিভাগের ২০ বছর পূর্তি আমাদের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। বিগত দুই দশক ধরে শুধু গ্র্যাজুয়েট তৈরি করিনি, বরং দেশের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ খাতে দক্ষ, সৃজনশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলেছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক সুতোয় গাঁথতে চাই, যা ভবিষ্যতে বিভাগকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিভাগীয় প্রধান ড. আফতাব হোসেন বলেন, ‘যাত্রার শুরুতে এটি ছিল অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে ওঠা একটি ছোট্ট বিভাগ। মাত্র ২০ বছরের পথচলায় আজ আমরা এক হাজারেরও বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীর এক বৃহৎ পরিবার। আমাদের লক্ষ্য, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা সাংবাদিকতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।’
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্যসহ জেএমসি বিভাগের শিক্ষক ও প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ২০০৬ সালে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ’ রাখা হয়। বর্তমানে বিভাগটি দেশের অন্যতম স্বনামধন্য মিডিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। গত দুই দশকে বিভাগটি সাংবাদিকতা, টেলিভিশন, করপোরেট কমিউনিকেশন, জনসংযোগ, ডিজিটাল মিডিয়া এবং সৃজনশীল শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।





