‘এইডা শেষ করন লাগব, নইলে ঝামেলা অইব’—সাংবাদিককে যুবদল নেতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সুনামগঞ্জ
‘এইডা শেষ করন লাগব, নইলে ঝামেলা অইব’—সাংবাদিককে যুবদল নেতা
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে সরকারি সহায়তার কৃষক তালিকায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলায় এক স্থানীয় সাংবাদিককে মুঠোফোনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে ‘দৈনিক এদিন’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শিহাব মিয়াকে এই হুমকি দেওয়া হয়।

হুমকিদাতা সাদ্দাম হোসেন মধ্যনগর উপজেলার বংশিকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলার রংচি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী সাংবাদিক শিহাব মিয়াও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৮৯০ জন কৃষকের সহায়তার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও আপত্তি ওঠে। পরবর্তীতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রকৃত কৃষক, সাধারণ মানুষসহ সাংবাদিক শিহাব মিয়া নিজ ওয়ার্ডের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিছু অকৃষক, সচ্ছল ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন বিতর্কিত নামগুলোর সহায়তা সাময়িকভাবে স্থগিত করে এবং নামগুলো পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

সাংবাদিক শিহাব মিয়া জানান, তার আপত্তিকৃত তালিকার মধ্যে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাদ্দাম হোসেন তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে কল করে তাকে হুমকি দেন।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার যদি গেরামও থাকন লাগে, তাহলে এইডা শেষ করন লাগব, নইলে এইডা বুঝানি লাগব। নইলে তোমার ঝামেলা অইব, ক্লিয়ার কাট আলাপ।’ এ সময় সাংবাদিক শিহাব মিয়া জানতে চান তিনি কী ধরনের ঝামেলা করবেন বা এটি কোনো হুমকি কি না। জবাবে সাদ্দাম নিজেকে ‘সমাজের একজন’ দাবি করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিক শিহাব বলেন, ‘তুমি কে যে, তোমার কথায় দোকানে যেতে হবে?’ এতে চরম উত্তেজিত হয়ে যুবদল নেতা সাদ্দাম বলেন, ‘তুই রংচি থাকলে গেলে, আমার সামনে পড়ন লাগবো, সামনে পড়লে তুই বুঝিছ। তুই কত বড় সাংবাদিক অইছস, আমার সামনে পড়ন লাগবো...’

হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন বলেন, শিহাবকে আমি কোনো হুমকি দিইনি। সে সম্পর্কে আমার ভাতিজা (চাচাতো ভাইয়ের ছেলে)। সে কৃষকদের তালিকায় আপত্তি দিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়েছে, তবে কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম সাইফুল বলেন, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য বলা হয়েছে।

মধ্যনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে লিখিত আপত্তি পাওয়ার পর বিতর্কিত নামগুলো পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় আপত্তি জানানোকে কেন্দ্র করে কোনো সাংবাদিককে হুমকির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।