Advertisement

তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি কমাবে এই রং, এসি ছাড়াই ঠান্ডা থাকবে রুম

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি কমাবে এই রং, এসি ছাড়াই ঠান্ডা থাকবে রুম
ছবি: সংগৃহীত

গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড রোদে ভবনের ছাদ ও দেয়াল এতটাই গরম হয়ে ওঠে যে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। এতদিন এ সমস্যা মোকাবিলায় ভবনের ছাদ বা দেয়াল সাদা রং করা বা সারা দিন এসি চালিয়ে রাখাই ছিল প্রধান উপায়। তবে সাদা রং সবার নান্দনিক পছন্দের সঙ্গে মানানসই নয়।

Advertisement

এবার বিজ্ঞানীরা এমন একটি উদ্ভিদভিত্তিক বিশেষ আবরণ (রং) তৈরি করেছেন, যা বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াই রুম ঠান্ডা রাখতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি শুধু সাদা নয়—নীল, লাল, সবুজসহ নানা আকর্ষণীয় রঙেও ব্যবহার করা যাবে।

সম্প্রতি নেচার এনার্জি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে।

হংকং সিটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যাংইউয়ান লেইয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল উদ্ভিদের কোষ থেকে পাওয়া ‘ইথাইল সেলুলোজ’ ব্যবহার করে এই বিশেষ রং তৈরি করেছেন। এটি কোনো দেয়ালে লাগানো বা স্প্রে করার পর শুকাতে শুরু করলে নিজে থেকেই দুটি পৃথক স্তর তৈরি করে।

নিচের স্তরটি সাদা ও ছিদ্রযুক্ত গঠনের হয়, যা আয়নার মতো কাজ করে। এটি সূর্যের প্রায় ৯৭ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করতে সক্ষম। আর ওপরের স্তরটি রঙিন ও মসৃণ আবরণ তৈরি করে, যা ভবনকে আকর্ষণীয় চেহারা দেয়।

ফলে দেয়ালে আলাদা করে রং করার প্রয়োজন পড়ে না। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে রং খসে পড়ার ঝুঁকিও কমে।

পরীক্ষায় মিলেছে ইতিবাচক ফল

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই রং ব্যবহার করা তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

গবেষকদের মতে, এই রং বিল্ডিংয়ের ছাদে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করার পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপও বাইরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ফলে ঘরের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে এবং এসির ওপর নির্ভরতা কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কংক্রিট, আলকাতরা/বিটুমিন ও গাঢ় রঙের ছাদ দিনের বেলায় বিপুল পরিমাণ তাপ শোষণ করে এবং রাতে তা ছেড়ে দেয়। এতে শহরে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব তৈরি হয়। যার কারণে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় কয়েক ডিগ্রি বেশি হতে পারে।

নতুন এই রং সহজে ব্যবহার করা গেলে নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাড়ির মালিকরা নান্দনিকতা বজায় রেখেই ভবনকে তুলনামূলক শীতল রাখতে পারবেন। এতে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদাও কমতে পারে।

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব

গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন রং অতিবেগুনি রশ্মি, বৃষ্টি প্রতিরোধী এবং দাগ বা আঁচড় লাগলেও সহজে উঠে পড়ে না।

এটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি বাসা-বাড়ির তাপমাত্রা কমানোর একটি কার্যকর ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী সমাধান হয়ে উঠতে পারে।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া