ওয়াইফাইয়ের গতি কমে যাচ্ছে, দায়ী হতে পারে এই ভুলগুলো

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ওয়াইফাইয়ের গতি কমে যাচ্ছে, দায়ী হতে পারে এই ভুলগুলো
ওয়াইফাই ধীর হওয়ার কারণ সব সময় ইন্টারনেট সংযোগের ত্রুটি নয়। ছবি : সংগৃহীত

ওয়াইফাইয়ের ইন্টারনেট হঠাৎ ধীর হয়ে গেলে বেশির ভাগ মানুষই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর দোষ চাপান। কিন্তু সব সময় সমস্যার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ দায়ী নয়। অনেক সময় ঘরের ভেতরে থাকা কিছু সাধারণ জিনিস, ভুল জায়গায় রাউটার রাখা বা আশপাশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রও ওয়াইফাই সিগন্যাল দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও গতি কমে যেতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু দৈনন্দিন বিষয় আছে, যা অজান্তেই ওয়াইফাইয়ের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। এসব কারণ সম্পর্কে জানা থাকলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার সমস্যাও অনেক ক্ষেত্রে সহজেই সমাধান করা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই যেসব কারণে আমাদের অজান্তেই ওয়াইফাইয়ের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

অ্যাকুরিয়াম বা পানিভর্তি জিনিস

ওয়াইফাই সিগন্যাল রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে কাজ করে। পানি এই তরঙ্গের কিছু অংশ শোষণ করতে পারে। তাই রাউটারের সামনে বড় অ্যাকুরিয়াম, পানির ট্যাংক বা পানিভর্তি বড় কোনো পাত্র থাকলে সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।

আয়না ও ধাতব বস্তু

বড় আয়না, স্টিলের আলমারি, ধাতব দরজা বা অন্যান্য ধাতব বস্তু ওয়াইফাই সিগন্যাল প্রতিফলিত বা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফলে রাউটার থেকে দূরের কক্ষে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণে রাউটার এমন জায়গায় রাখা ভালো, যেখানে চারপাশে বড় ধাতব বস্তু কম থাকে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ মাইক্রোওয়েভ ওভেন চালু থাকলে কখনও কখনও ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে চলা ওয়াইফাইয়ের সঙ্গে হস্তক্ষেপ হতে পারে। ফলে ইন্টারনেটের গতি সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

ব্লুটুথ ডিভাইস

ওয়্যারলেস হেডফোন, স্পিকার, গেম কন্ট্রোলার কিংবা অন্যান্য ব্লুটুথ ডিভাইসও একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করতে পারে। একসঙ্গে অনেক ডিভাইস চালু থাকলে সিগন্যালের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

মোটা দেয়াল


কংক্রিট, ইট বা পাথরের মোটা দেয়াল ওয়াইফাই সিগন্যালের অন্যতম বড় বাধা। বিশেষ করে একাধিক দেয়াল পেরিয়ে সিগন্যাল গেলে তার শক্তি অনেকটাই কমে যায়। তাই রাউটার ঘরের এক কোণে না রেখে মাঝামাঝি স্থানে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অনেক স্মার্ট ডিভাইস

বর্তমানে একটি বাড়িতে স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ল্যাপটপ, ট্যাব, নিরাপত্তা ক্যামেরা, স্মার্ট বাল্ব, স্মার্ট স্পিকারসহ অসংখ্য ডিভাইস ওয়াইফাই ব্যবহার করে। একসঙ্গে অনেক ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে রাউটারের ওপর চাপ বাড়ে এবং ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে।

মানুষের শরীরও প্রভাব ফেলতে পারে

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও মানুষের শরীরের বড় একটি অংশ পানি দিয়ে তৈরি। তাই অনেক মানুষ একসঙ্গে রাউটার ও ডিভাইসের মাঝখানে থাকলে কিছুটা সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে। যদিও সাধারণ ব্যবহারে এটি খুব বড় সমস্যা নয়, তবে জনাকীর্ণ জায়গায় এর প্রভাব কিছুটা দেখা যেতে পারে।

রাউটার কোথায় রাখছেন

রাউটার যদি মেঝেতে রাখা হয়, আলমারির ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয় বা টেলিভিশনের পেছনে রাখা হয়, তাহলে সিগন্যাল ঠিকভাবে ছড়াতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, রাউটার খোলা জায়গায়, মেঝে থেকে কিছুটা উঁচুতে এবং ঘরের কেন্দ্রের কাছাকাছি রাখলে সবচেয়ে ভালো কভারেজ পাওয়া যায়।

কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই ওয়াইফাইয়ের পারফরম্যান্স উন্নত করা সম্ভব।

  • রাউটার খোলা ও উঁচু জায়গায় রাখুন।
  • বড় ধাতব বস্তু ও পানিভর্তি পাত্রের কাছ থেকে রাউটার দূরে রাখুন।
  • সম্ভব হলে ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করুন, যদি আপনার রাউটার ও ডিভাইস এটি সমর্থন করে।
  • নিয়মিত রাউটারের সফটওয়্যার হালনাগাদ করুন।
  • প্রয়োজন না হলে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস ওয়াইফাই থেকে বিচ্ছিন্ন রাখুন।
  • খুব বড় বাড়ি হলে ওয়াইফাই মেশ সিস্টেম বা রেঞ্জ এক্সটেন্ডার ব্যবহার করার কথা ভাবতে পারেন।
  • সব সমস্যার জন্য ইন্টারনেট কোম্পানি দায়ী নয়।

ওয়াইফাই ধীর হওয়ার কারণ সব সময় ইন্টারনেট সংযোগের ত্রুটি নয়। অনেক সময় ঘরের আসবাব, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, দেয়ালের গঠন বা রাউটারের অবস্থানই এর জন্য দায়ী হতে পারে। তাই সংযোগে সমস্যা হলে আগে নিজের বাড়ির পরিবেশ ও রাউটারের অবস্থান পরীক্ষা করে দেখুন। সামান্য কিছু পরিবর্তনেই অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি ও স্থিতিশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি