রাঙামাটিতে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, সাজেক ছাড়লেন আটকে পড়া পর্যটকরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাঙামাটি
রাঙামাটিতে প্লাবিত ৩০ গ্রাম, সাজেক ছাড়লেন আটকে পড়া পর্যটকরা
সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩০টি গ্রাম। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে টানা বর্ষণের কারণে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের ওপর পানি উঠে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফিরতে শুরু করেছেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ৩১১ জন পর্যটক সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদ স্থানে ফিরেছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে প্রথম দফায় ১৫০ জন পর্যটক সাজেক ছেড়েছিলেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে ১০৪টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাঙামাটির শুকুরছড়ি এলাকায় মাটি সরে গিয়ে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের দুটি পিলার হেলে পড়ায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পুরো শহর বিদ্যুৎহীন ছিল।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক। ছবি : এশিয়া পোস্ট
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও ৮টি ইউনিয়নের প্রায় সব এলাকা উজানের পানিতে ডুবে আছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঘাইছড়িসহ পুরো জেলায় বর্তমানে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ অবস্থান করছেন। আরও ১২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট
সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

এদিকে উপজেলা প্রশাসন থেকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানকারীদের জন্য রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার হিসেবে চাল, ডাল, চিনি ও চিড়া বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকার অনেক মানুষ তাদের গৃহপালিত পশু নিয়েও আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। তবে দুর্গম কিছু এলাকায় এখনো ত্রাণ সহায়তা না পৌঁছানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বাঘাইছড়ি ছাড়াও জেলার বিলাইছড়ির ফারুয়া, বরকল ও জুরাছড়ির নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিষয় :রাঙামাটি