বর্ষায় ঘরে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ পাচ্ছেন, হতে পারে ফুসফুসের জন্য সতর্কবার্তা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বর্ষায় ঘরে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ পাচ্ছেন, হতে পারে ফুসফুসের জন্য সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

বর্ষাকালে ঘরে স্যাঁতসেঁতে বা ভ্যাপসা গন্ধকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গন্ধ সবসময় নিরীহ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ঘরের ভেতরে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্মানোর লক্ষণ হতে পারে, যা দীর্ঘদিন শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই এমন গন্ধকে অবহেলা না করে এর কারণ খুঁজে বের করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

বর্ষাকালে অনেক ঘরেই এক ধরনের স্যাঁতসেঁতে বা ভ্যাপসা গন্ধ তৈরি হয়। আলমারি খুললে, দেয়ালের পাশে দাঁড়ালে বা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে ঢুকলে এই গন্ধ আরও বেশি অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গন্ধ অনেক সময় ঘরের ভেতরে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্মানোর ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি বা ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে।

কেন তৈরি হয় এই গন্ধ

বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে দেয়াল, কাঠের আসবাব, কার্পেট, পর্দা বা আলমারিতে আর্দ্রতা জমে থাকে। এই ভেজা পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

ছত্রাক বেড়ে ওঠার সময় কিছু রাসায়নিক উপাদান বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর কারণেই সাধারণত স্যাঁতসেঁতে বা ভ্যাপসা গন্ধ অনুভূত হয়।

ফুসফুসের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে

ছত্রাক খুব ছোট ছোট স্পোর বা কণার মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে।

সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সব সময় গুরুতর সমস্যা নাও হতে পারে। তবে সংবেদনশীল ব্যক্তি, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এসব স্পোর অ্যালার্জি, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ভেজা ও ছত্রাকযুক্ত পরিবেশে থাকলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফুসফুসের আরও জটিল সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

ঘরের ভেতরে থাকলে যদি নিচের সমস্যাগুলো বারবার দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

  • দীর্ঘদিন কাশি থাকা
  • বারবার হাঁচি বা নাক বন্ধ হওয়া
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • বুকে চাপ বা শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া
  • চোখ চুলকানো বা পানি পড়া
  • মাথাব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি

যদি ঘর থেকে বের হলে এসব উপসর্গ কমে যায় এবং ঘরে ফিরলে আবার বাড়ে, তাহলে ঘরের আর্দ্রতা বা ছত্রাক একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন ঘরে ছত্রাক জন্মেছে

সব সময় ছত্রাক চোখে দেখা যায় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে।

  • দেয়ালে কালো, সবুজ বা সাদা দাগ
  • রং উঠে যাওয়া বা দেয়াল ফুলে ওঠা
  • কাঠের আসবাবে স্যাঁতসেঁতে ভাব
  • আলমারি বা কাপড়ে ভ্যাপসা গন্ধ
  • ঘরের আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

বর্ষাকালে কয়েকটি অভ্যাস মেনে চললে ঘরে আর্দ্রতা ও ছত্রাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • প্রতিদিন কিছু সময় জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
  • রান্নাঘর ও বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান থাকলে ব্যবহার করুন।
  • ভেজা কাপড় ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় শুকাতে দেবেন না।
  • দেয়াল বা ছাদে পানি চুইয়ে পড়লে দ্রুত মেরামত করুন।
  • আলমারি ও বন্ধ জায়গা নিয়মিত খুলে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন।
  • সম্ভব হলে ঘরের আর্দ্রতা কম রাখতে ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ঘরের আর্দ্রতা ৫০ শতাংশের নিচে রাখার পরামর্শ দেন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির উপসর্গ বেড়ে যাওয়া বা অ্যালার্জির সমস্যা কমতে না চায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ঘরের আর্দ্রতা ও ছত্রাকের উৎসও দূর করা প্রয়োজন। শুধু ওষুধ খেয়ে সমস্যার মূল কারণ দূর করা সম্ভব নয়।

বর্ষাকালে ঘর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ঘরের বাতাসের মানের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। স্যাঁতসেঁতে গন্ধকে শুধু মৌসুমি সমস্যা ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে এর কারণ খুঁজে বের করা উচিত। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে শুধু ঘরই নয়, পরিবারের সবার শ্বাসযন্ত্রও সুস্থ রাখা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি