টাটকা ইলিশ-চিংড়ি চিনবেন কীভাবে

বাজারে ইলিশ ও চিংড়ির চাহিদা সব সময়ই বেশি, বিশেষ করে বর্ষাকালে। তবে ভালো মাছ চিনতে না পারলে বেশি দাম দিয়েও নিম্নমানের বা বাসি মাছ কিনে ফেলতে পারেন। তাই কেনার আগে টাটকা ইলিশ ও চিংড়ি চেনার কয়েকটি সহজ লক্ষণ জানা থাকলে সঠিক মাছ বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।
বর্ষা এলেই ইলিশের কদর বেড়ে যায়। আর ইলিশের সঙ্গে চিংড়িও থাকে অনেকের পছন্দের তালিকায়। কিন্তু বেশি দাম দিয়ে মাছ কিনেও অনেক সময় রান্নার পর কাঙ্ক্ষিত স্বাদ বা গন্ধ পাওয়া যায় না। কারণ মাছটি টাটকা ছিল না। তাই বাজারে যাওয়ার আগে জেনে রাখা ভালো, কী লক্ষণ দেখে টাটকা ইলিশ ও চিংড়ি চিনবেন।
টাটকা ইলিশ চেনার উপায়
চোখ হবে স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল: টাটকা ইলিশের চোখ সাধারণত পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং কিছুটা উজ্জ্বল থাকে। চোখ যদি ঘোলাটে, দেবে যাওয়া বা নিস্তেজ দেখায়, তাহলে মাছটি বেশ কিছুদিনের পুরোনো হতে পারে।
ফুলকার রং দেখুন: সম্ভব হলে মাছের ফুলকা দেখে নিন। টাটকা ইলিশের ফুলকা উজ্জ্বল লাল বা গাঢ় গোলাপি রঙের হয়। ফুলকা বাদামি, ধূসর বা কালচে হলে মাছটি না কেনাই ভালো।
শরীর হবে শক্ত: হাতে তুললে টাটকা মাছ শক্ত অনুভূত হবে। শরীর অতিরিক্ত নরম হলে বা সহজেই বাঁকিয়ে গেলে সেটি খুব টাটকা নাও হতে পারে।
আঁশ ও চামড়ার উজ্জ্বলতা: ভালো ইলিশের গায়ে প্রাকৃতিক রুপালি আভা থাকে। আঁশ সহজে উঠে গেলে বা চামড়া নিস্তেজ দেখালে সতর্ক থাকুন।
গন্ধ পরীক্ষা করুন: টাটকা ইলিশে হালকা নদী বা সমুদ্রের স্বাভাবিক গন্ধ থাকবে। যদি তীব্র আঁশটে, টক বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেই মাছ না কেনাই ভালো।
টাটকা চিংড়ি চিনবেন যেভাবে
মাথা ও শরীর শক্তভাবে লেগে থাকবে: ভালো চিংড়ির মাথা শরীর থেকে আলাদা হয়ে থাকে না। যদি মাথা ঢিলে হয়ে যায় বা সহজেই খুলে আসে, তাহলে সেটি পুরোনো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খোসা হবে শক্ত ও চকচকে: টাটকা চিংড়ির খোসা শক্ত, মসৃণ ও উজ্জ্বল থাকে। খোসা নরম বা অতিরিক্ত পিচ্ছিল হলে মাছটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
রং হবে স্বাভাবিক: চিংড়ির গায়ে অস্বাভাবিক কালো, লাল বা বাদামি দাগ থাকলে সতর্ক থাকুন। এগুলো অনেক সময় মাছের গুণগত মান কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
শরীরের গঠন লক্ষ্য করুন: টাটকা চিংড়ি সাধারণত স্বাভাবিকভাবে কিছুটা বাঁকানো থাকে। তবে শুধু শরীরের আকৃতি দেখে মাছে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। তাই এটি একমাত্র লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
গন্ধে বুঝুন: চিংড়ির গায়ে হালকা সামুদ্রিক বা স্বাভাবিক গন্ধ থাকবে। যদি অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র বা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই নিরাপদ।
মাছ কেনার সময় আরও যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে মাছ কেনার চেষ্টা করুন।
- মাছ যেন বরফের মধ্যে বা পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশে সংরক্ষণ করা থাকে।
- মাছ কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রাখুন বা রান্না করুন।
- দীর্ঘ সময় রোদে বা গরমে রাখা মাছ কেনা এড়িয়ে চলুন।
টাটকা মাছ বেছে নেওয়ার জন্য শুধু একটি লক্ষণের ওপর নির্ভর করবেন না। চোখ, ফুলকা, গন্ধ, শরীরের দৃঢ়তা এবং সংরক্ষণের অবস্থা সব মিলিয়ে বিচার করেই মাছ কিনুন। এতে ভালো মানের ইলিশ বা চিংড়ি বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে।
সূত্র: টিভি ৯




