হাসি-কান্না কোনোটাই আসে না, জানুন সম্ভাব্য কারণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
হাসি-কান্না কোনোটাই আসে না, জানুন সম্ভাব্য কারণ
ছবি : সংগৃহীত

অনেক সময় এমন হয়, আনন্দের খবরেও মন উচ্ছ্বসিত হয় না, আবার দুঃখের মুহূর্তেও কান্না আসে না। নিজের অনুভূতিগুলো যেন অস্পষ্ট হয়ে যায়, ভেতরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। এমন অভিজ্ঞতাকে অনেকেই সাময়িক ক্লান্তি বা মানসিক চাপ বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন অনুভূতিহীনতা থাকলে এর পেছনে মানসিক ও আবেগগত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভেতরটা শূন্য বা অনুভূতিহীন লাগার পেছনে কখনও কখনও শৈশবের কিছু অভিজ্ঞতাও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ছোটবেলায় যদি একজন শিশুর অনুভূতি বারবার উপেক্ষিত হয় বা গুরুত্ব না পায়, তাহলে বড় হয়ে নিজের আবেগ চিনতে ও প্রকাশ করতে তার অসুবিধা হতে পারে।

অনুভূতিহীনতা কী?

অনুভূতিহীনতা মানেই একজন মানুষ কোনো আবেগ অনুভব করেন না, এমন নয়। বরং অনেক সময় আবেগগুলো ভেতরে থাকলেও সেগুলো বুঝে ওঠা বা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় কেউ হয়তো বলতেই পারেন না, তিনি আসলে খুশি, দুঃখিত, নাকি রাগান্বিত। অনেকের কাছে জীবন যেন যন্ত্রের মতো চলতে থাকে।

শৈশবের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?

শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন বাবা-মা বা অভিভাবক নিয়মিতভাবে শিশুর অনুভূতি শোনেন, বুঝতে চেষ্টা করেন এবং গুরুত্ব দেন, তখন শিশু নিজের আবেগকে চিনতে শেখে।

কিন্তু যদি শিশুর কান্না, ভয়, দুঃখ বা আনন্দ বারবার উপেক্ষিত হয়, তাহলে সে ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দিতে শিখতে পারে। সময়ের সঙ্গে এটি এমন অভ্যাসে পরিণত হতে পারে যে বড় হয়েও নিজের আবেগ চেনা কঠিন হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানে একে শৈশবের আবেগগত অবহেলা বা চাইল্ডহুড ইমোশনাল নেগলেক্ট বলা হয়।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

সব মানুষের ক্ষেত্রে একই রকম লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে

  • নিজের অনুভূতি বোঝা বা প্রকাশ করতে অসুবিধা হওয়া
  • সব সময় ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করা
  • নিজের চাওয়া বা প্রয়োজন বুঝতে না পারা
  • সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হওয়া
  • সব সময় নিজেকেই দোষ দেওয়া
  • অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের আগে রাখা
  • কোনো কিছুতে আনন্দ বা আগ্রহ কম অনুভব করা

এসব লক্ষণ অন্য মানসিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই শুধু এগুলো থাকলেই যে শৈশবের আবেগগত অবহেলার অভিজ্ঞতা ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

অনুভূতিহীনতা কি সব সময় মানসিক রোগের লক্ষণ?

না। মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মানসিক আঘাত, কিছু শারীরিক অসুস্থতা কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন অনুভূতি হতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে যদি এমন সমস্যা থাকে বা এটি দৈনন্দিন জীবন ও সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ধীরে ধীরে পরিবর্তন সম্ভব

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া শেখা, বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, নিয়মিত নিজের আবেগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার চেষ্টা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা মনোচিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে অনেকেই ধীরে ধীরে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

এটি রাতারাতি বদলে যায় না। তবে নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে ধীরে ধীরে গ্রহণ করার অভ্যাস গড়ে তুললে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন

সব সময় ভেতরটা শূন্য লাগা বা আবেগ প্রকাশ করতে না পারা দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এর পেছনে নানা মানসিক ও জীবনের অভিজ্ঞতা কাজ করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন অনুভূতিকে অবহেলা না করা।

যদি মনে হয় দীর্ঘদিন ধরে নিজের আবেগ বুঝতে বা প্রকাশ করতে সমস্যা হচ্ছে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজন হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন। সময়মতো সহায়তা পেলে নিজের অনুভূতির সঙ্গে আবারও সংযোগ তৈরি করা সম্ভব।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে