বর্ষায় জুতো খুললেই পায়ের দুর্গন্ধ, সহজ যত্নেই মিলতে পারে সমাধান

বর্ষাকালে বৃষ্টি, কাদা আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে পায়ের নানা সমস্যা বেড়ে যায়। অনেকেই এ সময় জুতো খুলতেই দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে পড়েন। শুধু দুর্গন্ধই নয়, সঙ্গে দেখা দিতে পারে চুলকানি, ছত্রাক সংক্রমণ এবং ত্বকের নানা সমস্যাও। তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বর্ষায় পা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে যাদের পায়ে বেশি ঘাম হয়, তাদের ক্ষেত্রে দুর্গন্ধের সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়।
ফুট অ্যান্ড অ্যাঙ্কল সার্জন কুশল নাগের মতে, পায়ের দুর্গন্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি। তাই প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে পায়ের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।
ভালো খবর হলো, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে পায়ের এসব সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
পা পরিষ্কার রাখুন
বাড়ি ফিরে প্রথমেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে ভালোভাবে পা ধুয়ে নিন। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। এরপর পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা ভালোভাবে মুছে একেবারে শুকিয়ে নিন। পায়ে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে।
অ্যান্টিসেপটিক মিশ্রিত গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন
হালকা গরম পানিতে অল্প পরিমাণ অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড মিশিয়ে কয়েক মিনিট পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এরপর ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন। এতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমতে পারে এবং দুর্গন্ধও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ভিনেগার বা লবণ মেশানো পানি ব্যবহার করতে পারেন
পায়ের দুর্গন্ধ কমাতে হালকা গরম পানিতে সামান্য ভিনেগার বা লবণ মিশিয়ে কিছুক্ষণ পা ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এটি দুর্গন্ধ কমানোর পাশাপাশি ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পা শুকনো রাখুন
পা পরিষ্কার করার পর প্রয়োজন হলে ট্যালকম পাউডার বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ফুট স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পা দীর্ঘ সময় শুকনো থাকে এবং ঘামও তুলনামূলক কম হয়।
জুতো ও মোজার যত্নও জরুরি
শুধু পায়ের যত্ন নিলেই হবে না, নিয়মিত পরিষ্কার মোজা পরাও জরুরি। প্রতিদিন ব্যবহৃত মোজা ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করুন।
একই সঙ্গে জুতোর দিকেও নজর দিতে হবে। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে জুতো কখনোই পরা উচিত নয়। সুযোগ পেলেই জুতো রোদে শুকিয়ে নিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি জুতোর ভেতরে থাকা অনেক ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে। যদি রোদ না থাকে, তাহলে জুতো অন্তত এক দিন খোলা জায়গায় শুকানোর সুযোগ দিন।
সঠিক জুতা বেছে নিন
বর্ষাকালে এমন জুতা ব্যবহার করুন, যা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং বাতাস চলাচলের সুযোগ থাকে। প্লাস্টিক বা রাবারের স্যান্ডেল অনেক সময় ভেজা পরিবেশে বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা পরে থাকাও ঠিক নয়।
প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা পরুন
মোজা ব্যবহার করলে প্রতিদিন পরিষ্কার ও শুকনো মোজা পরুন। যদি মোজা ভিজে যায়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলুন। সুতি বা ঘাম শোষণ করতে পারে এমন কাপড়ের মোজা তুলনামূলক ভালো।
নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখুন
বড় নখে সহজেই ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। তাই নিয়মিত নখ কেটে পরিষ্কার রাখুন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।
পায়ে দুর্গন্ধ হলে কী করবেন?
ঘাম ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে সাধারণত পায়ে দুর্গন্ধ হয়। তাই নিয়মিত পা ধোয়া, শুকনো রাখা এবং পরিষ্কার জুতা-মোজা ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পায়ে তীব্র চুলকানি, লালচে ভাব, ত্বক খসে পড়া, ফোসকা, ব্যথা বা দুর্গন্ধ কয়েক দিন ধরে না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের পায়ের যেকোনো সংক্রমণ অবহেলা করা ঠিক নয়।
বর্ষাকালে পায়ের যত্ন নিতে খুব বেশি খরচ বা আলাদা কোনো ব্যবস্থা প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখা, ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া, ভেজা জুতা-মোজা বদলে ফেলা এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করার মতো ছোট ছোট অভ্যাসই পায়ের দুর্গন্ধ ও ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। একটু সচেতন থাকলেই বর্ষাজুড়ে পা থাকবে সুস্থ ও স্বস্তিতে।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮




