জলাবদ্ধতায় জিম্মি সাভারে লাখো শ্রমিক, ড্রেন উপচে ঘরে ময়লা পানি

টানা কয়েক দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে শুধু নিচু এলাকাই নয়, এবার উঁচু স্থানের বাসাবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার ও মসজিদেও ঢুকে পড়েছে ড্রেন উপচে পড়া দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এই অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ, যার বড় একটি অংশই পোশাক শ্রমিক। এই জলাবদ্ধতার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে বহু কারখানা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংহপুর, ঘোষবাগ, পুকুরপাড় ও সাভারের বিভিন্ন এলাকার মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে থইথই করছে নোংরা পানি। অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে এখন কোমর সমান পানি। এ ছাড়াও স্থানীয় কাঁচাবাজার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট, এমনকি মসজিদেও পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। ক্রেতা না থাকা এবং দোকানে পানি ওঠায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সাভার পৌর এলাকাসহ ব্যাংক কলোনি ও নামাবাজারের চিত্রও একই।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। প্রতিদিন কারখানায় যাওয়ার পথে তাদের নোংরা ও কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। অনেক কারখানার ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো কোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা সাময়িকভাবে সাধারণ ছুটি দিতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার প্রাকৃতিক খাল ও জলাশয়গুলো বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী মহল ও আবাসন কোম্পানিগুলো ভরাট করে ফেলেছে। পাশাপাশি শিল্প কারখানার বর্জ্য এবং পলিথিন জমে ড্রেনগুলো আগে থেকেই বন্ধ ছিল। ফলে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কোনো পথ পাচ্ছে না।
এই দুর্ভোগ থেকে দ্রুত মুক্তি চান জামগড়া এলাকার পোশাক শ্রমিক মরিয়ম বেগম। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘ঘরে কোমর সমান ময়লা পানি। রান্নাবান্না বন্ধ, দুদিন ধরে শুকনো খাবার খেয়ে আছি। এই দুর্গন্ধ পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে ফ্যাক্টরিতে যেতে হচ্ছে, পায়ে ঘা হয়ে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে চরম বিপদে আছি, আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।’
জিরাবো পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা আলিছ বলেন, ‘শুধু নিচু এলাকা না, এবার উঁচু জায়গার ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। নোংরা পানির জন্য বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। মসজিদে কোমর সমান ময়লা কালো পানি, গিয়ে নামাজ পড়ার উপায়ও নেই। আমরা পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েছি।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িক এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছি, যেন দ্রুততম সময়ে মানুষ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যেতে পারে। ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তাদের নিজ নিজ এলাকার মানুষের পাশে থাকার ও ড্রেন সচল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’





