ব্রাজিল ফুটবল নিয়ে পেলে-কন্যার বিস্ফোরক মন্তব্য, দিলেন সমাধান

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ব্রাজিল ফুটবল নিয়ে পেলে-কন্যার বিস্ফোরক মন্তব্য, দিলেন সমাধান
ছবি : সংগৃহীত

সর্বশেষ ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। গত ছয় বিশ্বকাপে দলটির সর্বোচ্চ অর্জন স্রেফ সেমিফাইনালে ওঠা। সেটা ২০১৪ সালে, যেবার জার্মান-ঝড়ে ৭-১ গোলে উড়ে যায় পেলের শিষ্যরা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে ছাড়িয়ে গেছে আগের সব ব্যর্থতা। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১৯৯০ শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে সেলেসাওরা।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের এমন করুণ পরিণতি মানতে পারছেন না পেলে-কন্যা কেলি নসিমেন্ত।

পেশায় চলচ্চিত্র নির্মাতা নসিমেন্তর মতে, ধ্বংস হয়ে গেছে ব্রাজিলের ফুটবল। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে প্রতিফলিত হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগও আনেন তিনি।

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেলি বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কারণটা দুর্নীতি হোক বা অন্য কিছু, এটি এমন এক বদ্ধ, আত্মকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যেখানে বাইরের কেউ ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখতে পারে না। সবাই জানে কেন এটি ঠিকমতো কাজ করছে না, কিন্তু ঠিক করার ক্ষমতা কারও নেই।’

তার মতে, প্রকৃতিপ্রদত্ত উপহার হিসেবে ব্রাজিল সব সময় উঁচুমানের ফুটবলার পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে তাদের ভোগা মূলত অত্যন্ত জটিল কাঠামোগত সমস্যারই বড় লক্ষণ।

২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারিয়ে নিজেদের পঞ্চম ট্রফি জেতার পর থেকেই আর বড় সাফল্য নেই ব্রাজিলের ফুটবলে। ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো। প্রতি আসরে অনেক উচ্চাশা নিয়ে অংশ নিলেও, একবার সেমিফাইনালসহ বাকি সব আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে শেষ হয়ে যায় তাদের দৌড়।

গত পাঁচ বিশ্বকাপের হতাশা আরও বাড়িয়ে এবার নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বাড়ির পথ ধরেছে সেলেসাওরা।

কেলি বলছেন, তার প্রয়াত বাবা অর্থাৎ ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে আগেই এসব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

এসব থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে ফ্রান্সের মতো দেশের উদাহরণ টেনে পেলে-কন্যা বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো করার জন্য কার্যকর কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্রান্স। যে কারণে গত দুই বিশ্বকাপেই ফাইনাল খেলেছে তারা।

তবে হতাশার মাঝে একটি আশার দিক তুলে ধরে কেলি বলছেন, রিও ডি জেনিরোভিত্তিক ক্লাব বোতাফোগোর পুনর্জাগরণের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী জন টেক্সটর যেভাবে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, সেটি হতে পারে উদাহরণ।

কেলি বলেন, ‘তিনি (টেক্সটর) যেভাবে বিষয়টি সামলাচ্ছেন, তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। প্রতিটি বিষয়েরই ভালো-মন্দ দুই দিক থাকে। তিনি যে বিষয়টি নিয়ে এসেছেন, তা হলো স্বচ্ছতা। এ ছাড়া তিনি একটি বিদেশি সংস্থার কাছেও জবাবদিহির মধ্যে আছেন। আমার কাছে এটি ইতিবাচক দিক, তাকে নিয়ে যত সমালোচনাই হোক না কেন।’

সূত্র: রয়টার্স