মরক্কোর স্বপ্ন থামিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মরক্কোর স্বপ্ন থামিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়ের মতোই ফিরে এলেন দ্বিতীয়ার্ধে। তার গোলেই ভাঙল মরক্কোর প্রতিরোধ, এরপর উসমান দেম্বেলের গোলে নিশ্চিত হলো জয়। বোস্টন অঞ্চলের ফক্সবরোতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

এই জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালিস্ট হলো দিদিয়ের দেশমের দল। আর এমবাপ্পে আবারও দেখালেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রভাব কতটা। পেনাল্টি মিসের পরও এই ম্যাচে গোল করে চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৮।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। মরক্কো নামল সতর্ক পরিকল্পনায়। প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়াই ব্রাহিম দিয়াসকে সামনে রেখে দল সাজান মোহামেদ উয়াহবি। পরিকল্পনা ছিল রক্ষণ সামলে সুযোগের অপেক্ষা করা। কিন্তু ফ্রান্স এতটাই চাপ তৈরি করছিল যে প্রথমার্ধে মরক্কো প্রায় আক্রমণ গড়তেই পারেনি।

মাইকেল ওলিসে মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগে ছন্দ দিচ্ছিলেন। দেম্বেলে বারবার ডান দিক থেকে বিপদ তৈরি করছিলেন। এমবাপ্পে শুরুতে কিছুটা আটকে থাকলেও ২৬ মিনিটে তার মুভ থেকেই পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মাজরাউইয়ের চ্যালেঞ্জে পড়ে যান ফরাসি অধিনায়ক। ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

স্পট-কিকে দাঁড়ান এমবাপ্পে। কিন্তু ইয়াসিন বোনো আবারও প্রমাণ করেন, পেনাল্টিতে তিনি কত বড় ভরসা। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এমবাপ্পের শট ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক। এরপরও ফ্রান্সের আক্রমণ থামেনি। উপামেকানো, দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে ও লুকা দিনিয়ে, একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও বোনো ও ক্রসবার মরক্কোকে বিরতি পর্যন্ত টিকিয়ে রাখে।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সের একচেটিয়া আধিপত্যের বিপরীতে মরক্কোর আক্রমণ ছিল প্রায় নিস্তেজ। মাইক মেনিয়ানকে বড় কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি। গোলশূন্য বিরতি তাই মরক্কোর জন্য ছিল স্বস্তি, ফ্রান্সের জন্য অপূর্ণতার গল্প।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মরক্কো কিছুটা বল দখল বাড়ায়। উনাহি, তালবি ও এল খান্নুসরা খেলায় ছন্দ আনার চেষ্টা করেন। ব্রাহিমও জায়গা তৈরি করছিলেন, কিন্তু শেষ তৃতীয়াংশে ফ্রান্সকে কাঁপানোর মতো ধার ছিল না। কিছুক্ষণ পর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ফ্রান্স।

৫৯ মিনিটে অবশেষে গোল পায় ফ্রান্স। বাঁ দিক থেকে জায়গা বানিয়ে এমবাপ্পে এমন এক শটে বল জালে পাঠান, যা আটকানোর সুযোগ বোনোরও ছিল না। পেনাল্টি মিসের হতাশা মুছে ফেলে ফ্রান্সকে ১-০ এগিয়ে দেন তিনি।

এর ছয় মিনিট পরই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারণ করে দেন দেম্বেলে। ফ্রান্সের চাপ থেকে বল ফিরে পেয়ে নিচু শটে গোল করেন তিনি। ৬৫ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ হতেই মরক্কোর সামনে পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়।

শেষ দিকে মরক্কো বদলি নামিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণ ছিল স্থির। মেনিয়ানকে খুব বেশি ব্যস্ত হতে হয়নি। বরং অন্য প্রান্তে ফ্রান্স আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিল। তবে বোনোর কয়েকটি সেভ ব্যবধান আর বাড়তে দেয়নি।

মরক্কোর জন্য এটি আরেকটি হতাশার রাত। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছেই থেমেছিল তাদের স্বপ্ন। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষের কাছে বিদায় নিতে হলো আটলাস লায়ন্সদের। বোনো দুর্দান্ত ছিলেন, কিন্তু আক্রমণে ইসমায়েল সাইবারির অনুপস্থিতি এবং ধার কম থাকা বড় হয়ে দেখা দিল।