মেসির রেকর্ডের আরও কাছে এমবাপ্পে

পেনাল্টি মিস করেছিলেন প্রথমার্ধে। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপ্পে বলেই হয়তো গল্পটা সেখানে শেষ হয়নি। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে ফ্রান্সকে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের আরও কাছে চলে গেলেন ফরাসি অধিনায়ক।
বোস্টন অঞ্চলের ফক্সবরোতে মরক্কোর বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন এমবাপ্পে। বক্সের ভেতর জায়গা বানিয়ে বাঁকানো শটে ইয়াসিন বোনোকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের পর বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোল দাঁড়াল ২০। তার সামনে এখন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোল ২১টি।
চলতি বিশ্বকাপেও মেসি ও এমবাপ্পের গোলের লড়াই জমে উঠেছে। দুজনেরই গোল এখন ৮টি করে। মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ২১-এ নিয়েছিলেন মেসি। এবার মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে ব্যবধান আবার একে নামালেন এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে ২০ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপে করেছিলেন ৪ গোল, সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি, যদিও ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তাঁর গোল ৮টি।
মরক্কোর বিপক্ষে গোলটি আসার আগে অবশ্য বড় সুযোগ নষ্ট করেছিলেন এমবাপ্পে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন বোনো। বিশ্বকাপে টাইব্রেকার ও পেনাল্টি পরিস্থিতিতে অসাধারণ সুনাম থাকা মরক্কোর গোলরক্ষক আবারও নিজেকে বড় মঞ্চের বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রমাণ করেন।
তবে পেনাল্টি মিস এমবাপ্পেকে থামাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে তার গোলেই ভাঙে মরক্কোর প্রতিরোধ। পরে উসমান দেম্বেলের গোল ফ্রান্সের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এখন মেসি ২১ গোল নিয়ে সবার ওপরে। ২০ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এমবাপ্পে। মিরোস্লাভ ক্লোসে ১৬ গোল নিয়ে তৃতীয়, ব্রাজিলের রোনালদো ১৫ গোল নিয়ে চতুর্থ। গার্ড মুলার ও হ্যারি কেইনের গোল ১৪টি করে।
তালিকায় ১৩ গোল নিয়ে আছেন ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন। তবে তার রেকর্ড আলাদা মর্যাদার। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে এক আসরেই ১৩ গোল করেছিলেন তিনি, যা এখনও এক বিশ্বকাপে কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
এমবাপ্পের সামনে এখন দুটি লক্ষ্য। প্রথমত, ফ্রান্সকে আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলা। দ্বিতীয়ত, মেসির রেকর্ড ছোঁয়া কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়া। ফ্রান্স সেমিফাইনালে ওঠায় সেই সুযোগ তার সামনে থাকছে।
- লিওনেল মেসি: ২১ গোল
- কিলিয়ান এমবাপ্পে: ২০ গোল
- মিরোস্লাভ ক্লোসে: ১৬ গোল
- রোনালদো: ১৫ গোল
- গার্ড মুলার ও হ্যারি কেইন: ১৪ গোল
- জুস্ত ফঁতেন: ১৩ গোল
- পেলে: ১২ গোল





