শেকৃবিতে এএসভিএম শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শেকৃবি
শেকৃবিতে এএসভিএম শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে মানব দেয়াল প্রদর্শন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

৪৭তম বিসিএসের প্রফেশনাল ক্যাডারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ১৮ জন প্রার্থী সুপারিশ পাননি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা টানা পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার কারণ প্রকাশ এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে এই আন্দোলন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্দোলনের পঞ্চম দিনে শিক্ষার্থীরা এম মাহবুবউজ্জামান অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এক মানব দেয়ালের মাধ্যমে ‘SAVE ASVM’ বার্তা প্রদর্শন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ডিন কাউন্সিলের আগামী সভায় এই সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে চলমান আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অগ্রগতিও তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।

তবে ডিন শিক্ষার্থীদের আপাতত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও, আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) এএসভিএম অনুষদের সেমিনার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংকট নিরসনে প্রশাসন, অ্যালামনাই, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করবে।

তবে এই বৈঠকেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে শিক্ষার্থীরা তা সরাসরি নাকচ করে দেন। আন্দোলনকারীরা জানান, চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। একই সঙ্গে আন্দোলনটি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।