গলা পানি পেরিয়ে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নিলেন সন্তানেরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঠাকুরগাঁও
গলা পানি পেরিয়ে মায়ের মরদেহ কবরস্থানে নিলেন সন্তানেরা
গলা পানি পেরিয়ে বৃদ্ধার মরদেহ নেওয়া হয় কবরস্থানে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার ফালডাঙ্গী গ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চারদিকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এমন দুর্যোগের মধ্যেই বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে নিজ বাড়িতে মৃত্যু হয় মফিজান বেগমের (৭০)। বিকেলে মফিজান বেগমের স্বজনরা মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানের উদ্দেশে রওনা দেন।

কিন্তু কবরস্থানে যাওয়ার প্রধান প্রবেশপথটি তখন বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত কোনো বিকল্প পথ না পেয়ে গলা সমান পানি পেরিয়েই মায়ের মরদেহ কাঁধে নিয়ে কবরস্থানে পৌঁছান সন্তান ও স্বজনেরা।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানানোর সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্য অনেকের চোখে জল এনে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওই গ্রামের মজিবর রহমান নামে একজন বলেন, দাফন করার জন্য একটা লাশ নিয়ে যাব তার রাস্তা নেই। গলা পানিতে নেমে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমরা বহুবার রাস্তার কথা চেয়ারম্যানকে জানাইছি। কিন্তু দেব দেব করে দেয়নি। আমরা চাই দ্রুত যেন রাস্তা করে দেওয়া হয়। যাতে লাশ নিয়ে এমন দুর্ভোগে আমরা না পড়ি।

মৃতের ছেলে জীবন হক বলেন, মা মারা গেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সব দিকে পানি। মরদেহ তো আর ঘরে রাখা যাবে না। তাই ৪ ভাই আর কিছু আত্মীয়-স্বজন মিলে পানিতে ডোবা রাস্তা দিয়ে মরদেহ নিয়ে আসছি। কবে যে এই রাস্তাটা ঠিক হবে আল্লাহ জানেন।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চন্দন কর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ইতোমধ্যে মরদেহ দাফন করতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সেটা দেখে হতাশ হয়েছি। এটা আসলে দুঃখজনক। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কবরস্থানের রাস্তাটি সংস্কার করবো।

এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কবরস্থানে যাতায়াতের পথ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একটি মরদেহ দাফন করতেও যখন গলা সমান পানি পেরিয়ে যেতে হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারের দুর্ভোগ নয়— বরং এলাকার অবকাঠামোগত বাস্তবতার এক নির্মম চিত্রও।