অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সংশোধন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক) আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রটির জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা সভা’শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। আইনের সঙ্গে সংঘাতে আসা শিশুরাও যেন নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কোনো শাস্তির জায়গা নয়। এটি শিশুদের বিকাশ, সংশোধন ও পুনর্বাসনের প্রতিষ্ঠান। সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিং, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সামাজিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে এসব শিশুকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, ধারণক্ষমতা, অবকাঠামোগত সমস্যা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থাপত্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক), টঙ্গী, গাজীপুরের প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন ও উন্মোচন করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে আজ থেকে ৫০ বছর পরেও কেউ বলতে না পারে যে পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি ছিল।’তিনি নির্দেশ দেন, বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ৩টির সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় টঙ্গী কেন্দ্রে নির্মাণাধীন ৩ তলা ভবন দ্রুততম সময়ে ১০ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ডিপিপির আলোকে নিবাসী শিশুদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ১২ তলা ভবন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিতে হবে।
এর আগে সকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ অতিথিদের স্বাগত জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, ‘বিদ্যমান শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ৩টির সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মোহা. কামরুজ্জামান ও কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খান।





