আর্জেন্টিনা-মিশর বিতর্কে ব্যাখ্যা দিল ফিফা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আর্জেন্টিনা-মিশর বিতর্কে ব্যাখ্যা দিল ফিফা
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারিং বিতর্কে অবশেষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বাতিল গোল এবং আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মোহামেদ সালাহকে ঘিরে পেনাল্টি দাবি নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে ম্যাচ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

আটলান্টায় ম্যাচটিতে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ ভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের পর মিশর শিবির অভিযোগ তোলে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাদের বিপক্ষে গেছে। মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল এবং এনজোর গোলের আগে সালাহকে ঘিরে সম্ভাব্য পেনাল্টি না দেওয়া ছিল অভিযোগের কেন্দ্রে।

কলিনা অবশ্য ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে ওঠা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন। তার বক্তব্য, ফুটবলে সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা থাকবে, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের জায়গা নেই। বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা আরও বলেছেন, এমন অভিযোগ রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তার মতে, ফিফা রেফারিং বিভাগকে কেউ প্রভাবিত করতে পারে, এমন দাবি করাও ঠিক নয়। এমনকি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও নন। ম্যাচ কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন এবং খেলোয়াড়-কোচদের মতো তারাও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন।

জিকোর বাতিল গোলের ব্যাখ্যায় কলিনা বলেন, কোনো গোল হলে ভিএআর গোলের আগে আক্রমণ গঠনের ধাপটি পরীক্ষা করতে পারে। সেই ধাপে যদি আক্রমণকারী দলের কোনো ফাউল পাওয়া যায় এবং সেটি গোলের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউর পরামর্শ দিতে পারে।

মিশরের বাতিল গোলের ক্ষেত্রে ফিফার ব্যাখ্যা, আক্রমণ গঠনের সময় মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা দিয়েছিলেন। কলিনার মতে, প্রতিপক্ষের পায়ে মাড়ানো ফাউল। মাঠের রেফারি সেটি না দেখলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে সালাহর পেনাল্টি দাবি নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা ভিন্ন। কলিনা বলেন, কোনো খেলোয়াড় আগে বল স্পর্শ করলে এবং এরপর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হলে সেটিকে ফাউল বলা যায় না। সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের ঘটনাকে রেফারি ও ভিএআর সেই ধরনের স্বাভাবিক সংস্পর্শ হিসেবেই দেখেছেন।

ফিফার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আলভারেজ আগে বল খেলেছিলেন। তাই পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। খেলা চলতে থাকে এবং পরের আক্রমণ থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করেন।

তবে কলিনা স্বীকার করেছেন, কিছু সিদ্ধান্তে সব সময়ই ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনার জায়গা থাকে। কিন্তু ফিফা সন্তুষ্ট যে ভিএআর নীতিগুলো পুরো টুর্নামেন্টে ঠিকভাবেই প্রয়োগ করা হয়েছে।

মিশরের অভিযোগ ও বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, সেটি সময় বলবে। তবে ফিফার অবস্থান এখন পরিষ্কার: জিকোর গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে ভিএআরের হস্তক্ষেপ সঠিক ছিল, সালাহর ঘটনায় পেনাল্টি দেওয়ার মতো ফাউল দেখেনি রেফারি ও ভিএআর, আর আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল বৈধ হিসেবেই বহাল আছে।