সিলেটে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যার শঙ্কা

সিলেটে অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আকস্মিক বন্যা এবং টিলা ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাজুড়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। পাশাপাশি জেলার ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমেত, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম থেকে নামা ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজারের দুটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে টানা বর্ষণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং চলছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিলেট অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ১১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদ-নদীতে নেমে এসে পানির স্তর আরও বাড়াতে পারে। ফলে সীমান্তঘেঁষা কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
পাউবো জানায়, ইতিমধ্যে মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার এবং ধলাই নদীর পানি ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার মাত্র ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে মাত্র ৬ ঘণ্টায় ৫০ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) শিলং কেন্দ্রের বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৮ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার মৌক্যিরওয়াত স্টেশনে সবচেয়ে বেশি ২৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্ব খাসি হিলস জেলার ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিবহুল এলাকা হিসেবে পরিচিত সোহরা (চেরাপুঞ্জি) অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেখানকার আরকেএম সোহরা স্টেশনে ২১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং মৌসিনরাম স্টেশনে ১৯৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া সোহরা মানমন্দিরে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পূর্ব গারো হিলসের উইলিয়ামনগরে ২০১ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং পূর্ব জৈন্তিয়া হিলসের রাতাছড়ায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে।





