আর্জেন্টাইন তারকাসহ ১৮ ফুটবলার নিষেধাজ্ঞা ঝুঁকিতে

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে ৯ জুলাই। এর মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কায় রয়েছে শেষ আটে ওঠা দলগুলো। একে অন্যের বিপক্ষে লড়াইয়ের পাশাপাশি হলুদ কার্ডের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই ১৮ ফুটবলারকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে।
ফলে তারা খেলতে পারবেন না সেমিফাইনালে। শিরোপার দৌড়ে থাকা এসব দলের পরিকল্পনায় পড়তে পারে বড় ধরনের প্রভাব।
৪৮ দল নিয়ে শুরু হওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ এখন শেষ আট দলের স্টেজে অবস্থান করছে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময় ৯ জুলাই (বাংলাদেশ সময় ১০ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল।
তবে এই পর্বে বেশ কয়েকটি দলকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। কারণ তারা ইতিমধ্যে নকআউট পর্বে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে আবার কার্ড দেখলে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ হারাবেন তারা।
বেশি ঝুঁকিতে যারা
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও মরক্কো। দুই দলেরই চারজন করে খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আছেন। ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, নিকো ও’রাইলি, ডেক্লান রাইস ও মার্ক গেয়িকে কোয়ার্টার ফাইনালে হলুদ কার্ড এড়িয়ে খেলতে হবে। অন্যদিকে মরক্কোর ইসা দিওপ, আশরাফ হাকিমি, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন।
ফ্রান্সের মানু কোনে, মাইকেল ওলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন। সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, ডেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহাইমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আর্জেন্টিনার গঞ্জালো মন্টিয়েল, স্পেনের ফেরান তোরেস, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেচেলে এবং নরওয়ের অ্যান্তোনিও নুসাও নিষেধাজ্ঞার অবস্থায় আছেন।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে এসব ফুটবলারের প্রতিটি ট্যাকল, ফাউল কিংবা প্রতিবাদ তাদের দলের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ফিফার নিয়মে পরিবর্তন
২০২৬ বিশ্বকাপে হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ৪৮ দলের আসরে অতিরিক্ত একটি নকআউট পর্ব যুক্ত হওয়ায় আগের নিয়ম বহাল থাকলে অনেক ফুটবলার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। সেই বিবেচনায় গ্রুপ পর্বে পাওয়া সব হলুদ কার্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এরপর শেষ ৩২ ও শেষ ১৬-এর ম্যাচে পাওয়া হলুদ কার্ডের হিসাব কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ হওয়ার পর আবারও হলুদ কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হবে। অর্থাৎ এই পর্ব পার হওয়ার পর আগের হলুদ কার্ড আর বহাল থাকবে না। ফলে কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ডের কারণে ফাইনালে খেলার সুযোগ হারাবেন না। তবে সেমিফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ফাইনালে নিষিদ্ধ হওয়ার নিয়ম আগের মতোই বহাল থাকবে।
ফিফার এই পরিবর্তনের লক্ষ্য সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি কমিয়ে আনা। নতুন ফরম্যাটে দলগুলোকে আগের চেয়ে বেশি নকআউট ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তাই শাস্তির নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন এনে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বর্তমান নিয়ম
এবার নকআউট পর্বে ভিন্ন দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন ফুটবলার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়বেন। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড থাকা খেলোয়াড়রা আরেকটি হলুদ কার্ড দেখলেই ছিটকে যাবেন সেমিফাইনাল থেকে।
অন্যদিকে লাল কার্ডের ক্ষেত্রে নিয়ম অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো ফুটবলার সরাসরি লাল কার্ড দেখলে পরের ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ থাকবেন। আর গুরুতর বা সহিংস আচরণের ঘটনায় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজন মনে করলে আরও দীর্ঘ মেয়াদের শাস্তিও দিতে পারবে।
পরবর্তী সূচি
৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচ। এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাই মাঠে গড়াবে দুই সেমিফাইনাল। ১৮ জুলাই হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল।




